তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মানুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত হাজারের ওপর। উদ্ধারকর্মীদের আশঙ্কা, আরও বাড়তে পারে প্রাণহানি। সিরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় জরুরি পরিস্থিতি জারি করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হোয়াইট হেলমেটস। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপুল এ প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করছে আন্তর্জাতিক মহল। যুক্তরাষ্ট্র পাঠাচ্ছে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা।
সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত আলেপ্পো, লাতাকিয়া, হামা এবং টারতুস প্রদেশে ২৩৭ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৬৩৯ জন আহত হয়েছেন।
এর আগে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের স্থানীয় একটি হাসপাতাল আরও ৮ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। সব মিলিয়ে এ অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা ২৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে তুরস্কের জরুরি পরিষেবা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ২৮৪ জন নিহত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। গাজিয়ানটেপ, আঙ্কারা ও আশপাশের শহরের অনেক ভবন ধসে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ চাপা পড়ে আছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয়। যার স্থায়িত্ব ছিল ৪৫ সেকেন্ডের মতো। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল তুরস্কের সীমান্তবর্তী শহর গাজিয়ানতেপ। এর উৎপত্তি ছিল ভূ-ভাগ থেকে ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে।
উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, সিরিয়ার ভূখণ্ড বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। প্রাণহানিও সেখানে বেশি। মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে সীমান্তের আজমারিন শহর। তাছাড়া, ক্ষয়ক্ষতির শিকার আলেপ্পো, লাতাকিয়া ও হামা শহরও। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হোয়াইট হেলমেটের দাবি, ধ্বংসাবশেষ সরানো গেলে বাড়বে প্রাণহানি। প্রতিবেশী লেবানন আর সাইপ্রাসেও অনুভূত হয়েছে কম্পন।
তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তবর্তী এলাকা বরাবরই ভূমিকম্প প্রবণ। ১৯৯৯ সালে, শক্তিশালী ভূমিকম্পে তুরস্কে প্রাণ হারান ১৭ হাজারের বেশি মানুষ।
বিবিসি জানিয়েছে, তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা ও আশপাশের অন্যান্য শহরে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ আটকা পড়ে আছেন। বিবিসির তুর্কি সংবাদদাতা জানিয়েছেন, দিয়ারবাকির শহরের একটি শপিং মল ধসে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, দক্ষিণ তুরস্ক ও উত্তর সিরিয়া অঞ্চলের বেশ কয়েকটি ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।
বিবিসির প্রযোজক রুশদি আবুলউফ সিরিয়ার গাজা উপত্যকা থেকে বলেছেন, তিনি যে বাড়িতে ছিলেন, সেখানে অন্তত ৪৫ সেকেন্ড ধরে ভূকম্পন অনুভব করেছেন।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী ভূমিকম্পটি সাইপ্রাস, সিরিয়া, লেবানন, গ্রিস, জর্ডান, ইরাক, রোমানিয়া, জর্জিয়া এবং মিসরেও অনুভূত হয়েছে।

