‘ব্রাহ্মণ বাড়িয়ার উপ নির্বাচনকে আওয়ামী লীগ মাগুরার দাদা বানিয়েছে’ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকএবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আর মাগুরা মার্কা নির্বাচন হবেনা।’
আজ মঙ্গলবার(৩১ জাুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা-১২ মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য ও অগ্নিসন্ত্রাসের প্রতিবাদে ‘শান্তি সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব ভীষণ খেপে গেছেন। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপনির্বাচনে মাগুরার মতো সকাল ১০টার মধ্যে ভোট শেষ হবেনা। দেশে আর কখনো সেই স্টাইলের নির্বাচন হবেনা। আগামীকাল ভোট, আওয়ামী লীগ কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবেনা। নির্বাচন নির্বাচনের মতোই হবে। আসল খেলা হবে আগামী নির্বাচনে।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের লালকার্ড, সরকার পতন আন্দোলন, ৫৪ দল, ১০ ও ২৪ দফা—সবই ভুয়া।এখন তারা নীরব পদযাত্রা করছে। মানুষের শক্তি যখন কমে আসে, তখন মুখের বিষ বের হয়ে আসে, বিএনপি নেতাদের অবস্থাও তাই। কেউ মারা গেলে যেমন নীরব শোভাযাত্রা করে, আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে তাঁরা এখন সেটাই করছেন।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশেও বায়দুল কাদের বলেন, ‘লন্ডনে বসে হুংকার দিচ্ছেন। সৎসাহস থাকলে দেশে আসুন। আপনি কাপুরুষ। রাজনীতি আর করবনা, এমন মুচলেকা দিয়ে লন্ডনে পালিয়েছেন। ১৬ বছর হলো, তিনি আসেননা। এখন ফখরুল সাহেবরা রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে আন্দোলন করছেন, যা কর্পূরের মতো উড়ে যাবে। তাঁরা ক্ষমতায় যাওয়ার দিবাস্বপ্ন দেখছেন। দেখতে থাকেন। আমরা পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল করেছি। চলতি বছরেই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হচ্ছে।’
বাংলাদেশ আর অন্ধকারে ফিরে যাবেনা জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত, যারা সেই খুনিদের পুরস্কৃত করেছে, শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করেছে, তাদের হাতে বাংলাদেশ তুলে দেওয়া হবেনা। যারা বাংলাভাই ও সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান করেছে, দেশের টাকা পাচার করেছে, সেখানে বাংলাদেশ আর ফিরে যাবেনা। অন্ধকারের শক্তিকে পরাজিত না করা পর্যন্ত এ লড়াই চলবে।’
শান্তি সমাবেশের প্রধান বক্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী আলবদর-শামসদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল বিএনপি। তারা এখন আন্দোলন করতে চায়। আমরাও চাই করুক। কিন্তু কোনো ধরনের নৈরাজ্য করলে মেনে নেওয়া হবেনা।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কখনো দেশ থেকে পালায়নি। প্রধানমন্ত্রীকে এক সময় দেশে আসতে অনেকে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি এসেছেন। সাহস থাকলে আপনিও (তারেকরহমান) দেশে আসুন। দেশের জনগণ আপনাকে দেখবে, আপনি কী করেছিলেন। জনগণের শক্তিকে আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে, বন্দুকের গুলিকে নয়।

