সোমবার (২৩ জানুয়ারি) কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় দুই নেতাকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব জানায়, আজ সকালে দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’-এর সামরিক শাখার প্রধান ও শুরা সদস্য রণবীর এবং তার সহযোগী বোমা বিশেষজ্ঞ বাশারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া ও আইন) মোঃ আবু সালাম চৌধুরী জানান, সোমবার সকাল থেকে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় অভিযান শুরু হয়।
“নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া-এর শীর্ষ এক নেতা উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অবস্থান করছেন, এমন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল অভিযান চালায়। উপস্থিতি টের পেয়ে জঙ্গিরা র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। র্যাব সদস্যরাও আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি ছোড়ে। সংগঠনের এক শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়,” যোগ করেন তিনি।
সকাল ৯টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, দেশীয় তৈরি দুটি অস্ত্র, ১১টি কার্তুজ ও আড়াই লাখ টাকাসহ তাদের আটক করা হয়। অভিযানে আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জঙ্গিদের সঙ্গে র্যাবের গোলাগুলি হয়। তবে গোলাগুলিতে কেউ হতাহত হয়নি।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান কমান্ডার খন্দকার আল মইন বলেন, কিছুদিন আগে বান্দরবানের পাহাড়ে এ জঙ্গি সংগঠন আস্তানা গড়ে তুলে প্রশিক্ষণ নেয়। পরে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এসময় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। কিন্তু সেখান থেকে পালিয়ে যায় সামরিক শাখার প্রধান রনবীর ও তার সহযোগী বাশার। পরে তারা উখিয়ার কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আত্মগোপন করেন।
র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, গত আগস্ট মাসে কুমিল্লা থেকে আট তরুণ হিজরতের নামে স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে বের হয়ে পড়ে। তাদের খুঁজতে র্যাব ফোর্স নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার সন্ধান পায়। এরপর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ওই সংগঠনের বেশকিছু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

