চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে অবৈধ মাটি কাটা চলছে প্রতিনিয়ত।কখনো দিনে আবার কখনো প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত চলে এই অবৈধ মাটি কাটার র্কাজ।স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা এ নিয়ে খবর প্রচার করলে কয়েকবার ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক ও জরিমানা করলেও বন্ধ হয়নি তাদের এ অপরাধ কর্মকান্ড। অবশেষে রাতের বেলাকে তারা মোক্ষম সময় হিসাবে বেছে নেয় এ অপরাধ কর্মের জন্য।এতো কিছু করেও প্রশাসনকে ধোঁকা দিতে পারলোনা তারা। বিভিন্ন সোর্স লাগিয়ে খবর সংগ্রহ করতে থাকে উপজেলা প্রশাসন ও সংবাদ কর্মীরা।
গতকাল রাতে গোপন সংবাদ পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মঈন উদ্দিন কনকনে ঠান্ডায় রাত ১২ টায় মাত্র দুইজন আনসার সদস্য নিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে অভিযানে বেড়িয়ে গেলেন তিনি।সফলও হলেন। মুছাপুর ১নং ওয়ার্ডে গিয়ে দেখতে পেলেন চারটি মাটি ভর্তি ট্রাক।ওনার উপস্থিতি টের পেয়ে ৩টি মাটি ভর্তি ট্রাক পালিয়ে গেলেও ১টি ট্রাক এবং ট্রাক ড্রাইভার লিটনকে আটক করতে সমর্থ হলেন তিনি।
আটকের পর ট্রাক ড্রাইভার লিটনের দেওয়া তথ্য থেকে জানতে পারেন যে,রহমতপুর বেড়িবাঁধ থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছেন রহমতপুর ৩নং ওয়ার্ডের পারভেজ, সেই মাটি যাচ্ছে কলেজের পাশে।মোঃ পারভেজ রহমতপুর ৩নং ওয়ার্ডের আবুল খায়েরের ছেলে ।এবং তার এই মাটি সিন্ডিকেটের সাথে অনেকেই জড়িত থাকার তথ্যও উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য যে,গত ২০শে নভেম্বর ২০২২ইং একইভাবে সরকারি খাস জমি থেকে মাটি কাঁটার দায়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন,২০১০ এর ১৫ ধারায় ৫০,০০০/- অর্থদণ্ড করেছিলেন সহকারী কমিশনার(ভূমি)মোঃ মঈন উদ্দিন।জরিমানা দিয়ে না থেমে আবারও শুরু করেছেন সেই সরকারি খাস জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করার এ ঘৃন্যতম কাজ।
এই বিষয়ে পারভেজের সাথে যোগাযোগ করতে গেলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কনকনে ঠান্ডায় গভীর রাতে অভিযান করে মাটি ভর্তি ট্রাক আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে সন্দ্বীপ সহকারী কমিশনার(ভূমি)মোঃ মঈন উদ্দিন বলেন,দায়িত্বের কাছে রাতদিন কোন বিষয় না আমার কাছে,আমি তথ্য পেলে সব সময় মাঠে অভিযান চালিয়ে থাকি।গত রাত ১২টায় জানতে পারি রহমতপুর বেড়িবাঁধ থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা হচ্ছে আমি সাথে সাথে একা বেড়িয়ে গেছি।রাস্তায় ৪টা মাটি ভর্তি ট্রাক দেখতে পেলেও সাথে জনবল না থাকায় ৩টি ট্রাক পালিয়ে গেছে।কিন্তু ১টি মাটি ভর্তি ট্রাক আটক করে দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা করেছি এবং অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।তবে মাটি বিক্রির অপরাধে এর আগেও পারভেজকে অর্থদন্ড করার পরও তার এ কাজ বন্ধ না হওয়া উদ্বেগের বিষয়। পরবর্তীতে এ কাজে তার সম্পৃক্ততা পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেবো।

