বোয়ালখালীতে ৬ একর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির দৃষ্টিনন্দন ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন সফল ব্যবসায়ী হাজী মোহাম্মদ আলম ববি।
তার বাগানজুড়ে থাকা বিভিন্ন জাতের ৫ শতাধিক ফলগাছ বৈচিত্র্যময় সবুজের সমাহার সৃষ্টি করেছে। ব্যতিক্রমী এ ফলের বাগান দেখতে প্রতিনিয়ত তার মাওয়া বাগান বাড়িতে ছুটে আসছেন বৃক্ষপ্রেমী মানুষ। স্থানীয় লোকজনের কাছে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি। ইতোমধ্যে তার ফল বাগানের বৈচিত্র্যময় সবুজের সমাহার নজর করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগের।
জানা গেছে,হাজী মোহাম্মদ আলম ববি একান্ত শখের বসে ২০১৩ সালে মাওয়া বাগান বাড়িতে রাজশাহীর চারশত আমের চারা লাগিয়ে ফলের বাগান শুরু করেন। বর্তমানে ১৫ কানি জমিতে গড়ে তুলেন,১২ মাসের আম,মালটা,ড্রাগন,বাকুল,লেবু,পেঁপে,লটকন,নারকেল,জলপাই,খেজুরের রস,আঙ্গুর,তরমুজ,আখ,চায়না কমলা,আলী গুট,কামরাঙ্গা,আতা,কলা,পেয়াজ,কাটা জ্যামি,আমড়া সবজি মুরগীর খামারসহ বিশাল এক সমন্বিত ফলের বাগান। শুরুতে বাগানের পরিচযার্র বিষয় বুঝতে কিছুটা অসুবিধা হলেও পরবর্তীতে সফলতার দেখা পান। তিনি নিজ উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ রোপণ করেন। কর্মজীবনে সব ব্যস্ততার ভিড়ে একটু সময় পেলে ফল বাগানের পরিচযার্য় মেতে উঠেন উদ্যোমী হাজী মোহাম্মদ আলম ববি। তার নিবিড় পরিচযার্য় বাগানের প্রতিটি গাছে ফল ধরতে শুরু করে। ইতোমধ্যে মালটা, কমলা, বরই, লেবুসহ বাগানের কয়েক প্রজাতির শীতকালিন ফলগাছে থোকায় থোকায় ফল ধরে আছে।
বৃক্ষপ্রেমী হাজী মোহাম্মদ আলম ববি বলেন, চট্টগ্রাম শহরে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করে ব্যবসায়িক জীবনে সফলতার দেখা পান তিনি। কিন্তু কর্মজীবনের শত ব্যস্ততার মধ্যে প্রকৃতির প্রতি ছিল অপরিসীম মমতা। তাই তো প্রকৃতির টানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, শুরুতে বাগানের পরিচযার্র বিষয়ে বুঝতে কিছুটা অসুবিধা হলেও পরে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। গত কয়েক বছর ধরে বাগানের বিভিন্ন ফলের গাছে ফল ধরতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে মালটা, কমলা ও বরইসহ শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের ফলগাছে ফলন শুরু করেছে। এক সময়ে শখের বশে গড়ে তোলা ফলের বাগানের বাণিজ্যিক প্রসার ঘটানোর স্বপ্ন দেখছেন মোহাম্মদ আলম ববি।
উপজেলা কৃষি কমর্কতা আতিক উল্ল্যহ ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন,মাওয়া বাগান বাড়িতে গড়ে ওঠা এ ফলের বাগান সবুজের সমাহার সৃষ্টির পাশাপাশি মিটাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফলের চাহিদা। বৃক্ষের প্রতি তার এ ভালোবাসাই সফলতার অন্যতম নিদর্শন। ইতোমধ্যে অনেকে ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজ বাড়ির আঙিনায় ফলের বাগান গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। ব্যতিক্রমী উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আলম ববি,র গড়ে তোলা ফলের বাগান অচিরেই বাণিজ্যিক প্রসার লাভ করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন,স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট ( এসএসিপি) এর অর্থায়নে কৃষককে বিনামূল্যে চারা কলম সরবরাহ করা হয়।তাছাড়া রাসায়নিক সার সহ বিভিন্ন প্রকার সহায়তা প্রদান করা হয়।

