চট্টগ্রাম একাডেমির বাইশতম বার্ষিক সাধারণ সভায় একাডেমির পরিচালক ড. আনোয়ারা আলম বলেন, আমরা বৈশ্বিক মহাদুর্যোগ পেরিয়ে এসেছি। কোভিড মহামারীর মতো বাধা পেরিয়ে এসে চট্টগ্রাম একাডেমি নানান কার্যক্রম উদযাপনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে। এ প্রতিষ্ঠান শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতিতে গৌরবময় ভূমিকা রেখে চলেছে।
তিনি মানুষকে ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে আরও বলেন, আমরা মানুষকে ভালোবাসি। আমরা একে অপরের পরিপূরক হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মানবকল্যাণে কাজ করে যাব। লেখক-সাহিত্যিকদের কাজই হচ্ছে মানুষকে ভালোবাসা এবং মানবপ্রকৃতির নান্দনিক দিকগুলো মানবসমাজের কাছে সৃষ্টির মাধ্যমে তুলে ধরা। বর্তমান প্রজন্ম বিভিন্ন প্রযুক্তিতে বুঁদ। এদের তারুণ্যকে রক্ষার জন্য চাই সাহিত্য-সংস্কৃতির নবজাগরণ। সৃজনশীলতা যত বাড়বে ততই বাংলার সাহিত্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য সমৃদ্ধ হবে।
আজ ২৫ ডিসেম্বর রবিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম একাডেমি ফয়েজ নুরনাহার মিলনায়তনে তিনি সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক শিশুসাহিত্যিক-সাংবাদিক রাশেদ রউফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন একাডেমির মহাপরিচালক আমিনুর রশীদ কাদেরী।
অতিথির বক্তব্য রাখেন ই-লার্নিং বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল হুদা খান। তিনি বলেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্য, ব্যবসা বাণিজ্যসহ প্রায় সব কিছুতেই চট্টগ্রামের অবদান অনস্বীকার্য। এখানকার সৃজনশীলতা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এ জন্য আমি চট্টগ্রামকে নিয়ে গর্ববোধ করি। চট্টগ্রামকে আরো ব্যাপকভাবে তুলে ধরার জন্য একযোগে যে যার অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। চট্টগ্রাম একাডেমি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক অরুণ শীল, জিন্নাহ চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক দীপক বড়–য়া, গল্পকার বিপুল বড়ুয়া, পরিচালক জাহাঙ্গীর মিঞা, পরিচালক সৈয়দা রিফাত আক্তার নিশু, পরিচালক মুহাম্মদ নোমান লিটন, পরিচালক শারুদ নিজাম, গল্পকার মিলন বনিক, অধ্যাপক মৃণালিনী চক্রবর্তী, পরিচালক এস এম মোখলেসুর রহমান, অধ্যাপক গোফরান উদ্দীন টিটু, অধ্যাপক কাঞ্চনা চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে একাডেমির পৃষ্ঠপোষক সদস্য অধ্যাপক ববি বড়ুয়া, নাট্যকার-লেখক কাসেম আলী রানা, জান্নাতুল ফেরদৌস, জীবন সদস্য ও সাধারণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আগামী বছর একাডেমির সদস্যদের সন্তানদের নিয়ে অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

