আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধের সাব সেক্টর কমান্ডার ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এম.পি. বলেছেন, প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরী একজন সাহসী ও আপসহীন জননেতা ছিলেন। অধিকার আদায়ে আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সব সময় অগ্রভাগে ছিলেন। কখনো পিছপা হননি। দলীয় ও রাজনৈতিক স্বার্থে তিনি আমাদেরকে এক ও অভিন্ন রেখেছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে নগরীর কাজীর দেউড়িস্থ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীতে নগর আওয়ামী লীগের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, তার সঙ্গে জনগণ ও দেশের স্বার্থে অনেক কাজ করেছি। মহিউদ্দিন চৌধুরী বড় হৃদয়ের মানুষ। জনগণের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে তিনি সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেন। আমাদেরকে নানা সময়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে যৌক্তিক পরামর্শ দিতেন এবং নেতা ও কর্মীদের সমন্বয় সাধন করতেন।
নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ও প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সন্তান ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
এসময় তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আমার বাবাকে নিয়ে আমার নতুন করে কিছু বলার নেই। তিনি আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে অন্তরে ধারণ করতেন।
বর্তমান সময় ও আগামী নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, আজ আমরা একটি কঠিন সময়ের মুখোমুখি অবস্থান করছি। এক বছরেরও বেশি সময় বাকি আছে আগামী জাতীয় নির্বাচনের। বিএনপি জামাত এবং স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি এখন থেকেই তাদের বিদেশী লবিস্টদের দিয়ে কীভাবে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে ঠেলে ফেলে দেওয়া যায় সেজন্য চক্রান্তের জাল বোনা শুরু করে দিয়েছে। এই চক্রান্তের জবাব দিতে হলে সংগঠনকে নবীন প্রবীণের সমন্বয়ে এবং প্রবীণদের অভিজ্ঞতায় ও নবীনদের উজ্জীবিত তেজে এক সুতোয় গেঁথে সাংগঠনিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতে হবে।
নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, মহিউদ্দিন ভাই সব সময় আমাদের কাছে ছিলেন ঠিক অবিকল একজন বঙ্গবন্ধুর ছায়া হিসেবে। একজন সফল রাজনীতিকের সবচেয়ে বড়গুণ হলো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার। তিনি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছেন প্রত্যেকটি সঠিক সময়োপযোগী ছিল। একারণে তিনি সফল রাজনীতিক এবং একজন অনন্য গুণী মানুষ।
নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসান হাসনীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, খোরশেদ আলম সুজন, এম. জহিরুল আলম দোভাষ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, কার্যনির্বাহী সদস্য বখতিয়ার উদ্দীন খান, মো. জাবেদ, থানা আওয়ামী লীগের এম এ হালিম, মো. ইছহাক, মোমিনুল হক, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সামশুল আলম, আবছার উদ্দীন চৌধুরী, গিয়াস উদ্দীন, পরিবারের পক্ষে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক বোরহানুল হাসান চৌধুরী সালেহীন, ইউনিট আওয়ামী লীগের মামুনুর রশিদ মামুন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নঈম উদ্দীন চৌধুরী, অ্যাড. সুনীল কুমার সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য আবদুচ ছালাম, নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, শফিকুল ইসলাম ফারুক, সৈয়দ হাসান মাহমুদ সমশের, চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, হাজী মো. হোসেন, হাজী জহুর আহমদ, জালাল উদ্দীন ইকবাল, আব্দুল আহাদ, আবু তাহের, ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, শহিদুল আলম প্রমুখ
এর আগে সকালে চশমা হিল জামে মসজিদের কবরস্থানে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী কবরে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এছাড়া কনভেশন সেন্টারে খতমে কোরআন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

