দুই তদন্ত কর্মকর্তা আকবর শাহ থানার এস আই বিকাশ চন্দ্রশীল (বিপি ৮৩১৩১৫৩১২০) এবং মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ (বন্দর) সি এম পি ইনস্পেক্টর (নিরস্ত্র) প্রিটন সরকার (বিপি ৭৯০৬০৯৯৩০৯) কে আগামী ৮ই জানুয়ারী ২৩ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালতে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেন ।
ক্রসফায়ারে নিহতের উপর দায় চাপিয়ে কন্যা শিশু ধর্ষণের মামলার প্রকৃত আসামীকে বাদ দিয়ে পুলিশ রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে আসামীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন ও সাক্ষী গ্রহণ করা হয়। ৫বছরের কন্য শিশু ধর্ষণের ঘটনায় একমাত্র আসামীকে পুলিশ তদন্তে অভিনব পন্থায় বাদ দিলেও সামগ্রীক বিষয় বিবেচনায় অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন ও সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত ।
মঙ্গলবার(২৯ নভেম্বর) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল -৪ এর বিজ্ঞ বিচারক মোঃ জামিউল হায়দার এর আদালত আকবর শাহ থানা পুলিশ ও পরবর্তীতে ডিবি পুলিশের প্রদত্ত তদন্ত প্রতিবেদন, বাদীর এজাহার, ভিকটিমের জবানবন্দি, মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট সহ বাদীপক্ষে নিয়োজিত মানবাধিকার আইনবিদগণের বক্তব্য শুনানী শেষে ৭২ বছর বয়সী একমাত্র আসামী নির্মল চন্দ্র আইসের বিরুদ্ধে গত ৭মার্চ২২ইং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ ও তৎ সংশোধন-২০০৩ এর ৯(১) ধারায় অভিযোগ আমলে নিয়েছিলেন। ৩০/০৫/২২ ইং চার্জ গঠন হলে ২৮/০৬/২২ ইং সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয় । সংবাদদাতা ভিকটিম সহ সর্বমোট ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা গ্রহণ করা হয় । আসামীর জামিন স্থায়ীর আবেদনের বিরুদ্ধে ভিকটিমপক্ষে মানবাধিকার আইনবিদগণ আপত্তি জানালে আদালত আসামীর জামিন পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত বর্ধিত করেন।
অভিযোগে প্রকাশ, চট্টগ্রাম নগরের আকবার শাহ থানার বেলতলী ঘোনা এলাকায় দরিদ্র রিক্সাওয়ালার কন্যা শিশু ফুলবানু (ছদ্মনাম) ভিকটিমকে শ্যাম্পু ও বেলুন কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষনের অভিযোগে মৃত উপেন্দ্র চন্দ্র আইস এর পুত্র নির্মল চন্দ্র আইস (৭২) এর বিরুদ্ধে শিশু ভিকটিমের পিতা মোঃ সাজু মিয়া বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ ও তৎ সংশোধন-২০০৩ এর ৯(৪)ক ধারায় আকবর শাহ থানায় এজাহার দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বিকাশ চন্দ্র শীল ভিন্ন থানায় পুলিশের ক্রস ফায়ায়ে নিহত জনৈক সন্ত্রাসী বেলাল হোসেন কে শিশু ধর্ষক সাজিয়ে মূল অভিযুক্তকে চার্জশীট থেকে বাদ দিয়ে এস.আই বিকাশ চন্দ্র শীল গত ২৯অক্টোবর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। উক্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বাদীপক্ষের নারাজী শুনানী শেষে আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশকে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে গত ২৩ নভেম্বর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বন্দর এর ইন্সপেক্টর প্রিটন সরকার পূর্ববর্তী প্রতিবেদন অনুসরণ করে একই ভাবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
উক্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদী পক্ষে পুনরায় নারাজী দাখিল করলে আদালত শুনানী অন্তে এজাহার, ভিকটিমের জবানবন্দি, মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট এবং মানবাধিকার এডভোকেটগণের যুক্তিতর্ক শুনানী শেষে উভয় প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সরাসরি আমলে নিয়ে আজ চার্জ গঠন পূর্বক সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য্য করেন। বিজ্ঞ আদালতের উক্ত আদেশে উল্লেখ করেন,তদন্তকালে ভিকটিমের জবানবন্দি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ ও তৎ সংশোধন-২০০৩ এর ২২ ধারা মতে বিগত ৭মে ২২ বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট লিপিবদ্ধ করেছেন। উক্ত জবানবন্দিতে ভিকটিম এই আসামী কিভাবে জোর পূর্বক ধর্ষণ করেছে তা উল্লেখ করেছে।
ভিকটিম বাসায় গিয়ে তার আম্মুকে বিষয়টি বললে পুলিশ এসে আসামীকে থানায় নিয়ে যায়। ভিকটিমের জবানবন্দি পর্যালোচনায় দেখা যায় আসামী ঘটনার সহিত সম্পৃক্ত আছে বলে প্রতীয়মান হয়। এছাড়াও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ৭ মে ২০২০খ্রি: তারিখ ভিকটিমের ধর্ষণ ও বয়স নির্ধারণ সংক্রান্তে পরীক্ষা হয়। উক্ত মেডিকেল পরীক্ষায় ভিকটিম ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়। বাদীপক্ষে মামলার শুনানীতে অংশগ্রহণ করেন মানবাধিকার এডভোকেটগণ যথাক্রমে- এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান, এডভোকেট এ.এইচ.এম জসিম উদ্দিন, এডভোকেট মোঃ হাসান আলী, এডভোকেট মোহাম্মদ বদরুল হাসান, এডভোকেট জিয়া উদ্দিন আরমান প্রমুখ। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন স্পেশাল পিপি এডভোকেট নিখিল কুমার নাথ এবং আসামীপক্ষে শুনানীতে অংশগ্রহন করেন এডভোকেট উত্তম কুমার দত্ত প্রমুখ।
ইমা

