শিরোনাম দেখে খটকা লাগতেই পারে অনেকের কাছে।কেননা ড্র,খোকা,কায়সার কেউই প্রার্থী ছিলেননা।কিন্তু নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার ভোটের পেছনে আরেকটি ভোট হয়েছে।জেলাবাসীর আগ্রহের কেন্দ্রে ছিলো পেছনের ভোটের ফলাফলের দিকে।আগেই জানানো হয়েছে চেয়ারম্যান ও দুই সদস্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিজয় নির্ধারিত হয়ে যাওয়ায় আজ জেলার তিন সাধারণ সদস্য পদে ও দুই সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ভোটগ্রহণ হয়েছে।
এর মধ্যে ১নং সাধারণ ওয়ার্ডে প্রার্থীদের একজন মুজিবুর রহমান সাংসদ শামীম ওসমান এর ঘনিষ্ঠ, আরেকজন প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মেয়র আইভীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।তাই এই ওয়ার্ডে নেপথ্যে মূলতঃ আওয়ামী লীগের দুই মেরুর লড়াই হয়েছে।আর কি আশ্চর্য!লড়াইয়ে কেউ হারলেন না।সবাইকে অবাক করে দিয়ে দুজনেই সমান ১৮ টি করে ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচন কর্মকর্তা মতিয়ুর রহমান জানিয়েছেন আগামী ১৮ ই অক্টোবর লটারীতে বিজয়ী নির্ধারন করা হবে।লটারিতে কি হবে তা মূখ্য নয়।আজকের এই সমতায় খুশি দুই পক্ষেরই সমর্থকগণ।অনেকেই আল্লাহর কাছে শোকরিয়া জানিয়ে বলেন,কোন পক্ষেরই ইজ্জত হানি হয়নি এটাই বড় পাওয়া। ২নং ওয়ার্ডে তেমন মেরুকরণ ছিলোনা।কেননা প্রার্থীদের সকলেই ওসমান পরিবারের অনুসারী। এখানে ৯৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মাসুম আহমেদ।নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাহাঙ্গীর আলম পেয়েছেন ৫৭ ভোট।অন্যদিকে সংরক্ষিত নারী সদস্য ওয়ার্ড ১ এ সাদিয়া আফরিন বই প্রতিক নিয়ে ১১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।নিকটতম হরিণ প্রতিকের নাসরিন পেয়েছেন ৬৭ ভোট। সাধারণ সদস্য পদের ৩ নং ওয়ার্ডে পেছনের ভোটে জাতীয় পার্টির সাংসদ খোকা বনাম সাবেক সাংসদ,সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কায়সার হাসনাতের মাঝে হয়েছে।
আজকের ভোটে সাংসদ খোকা ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাঈম ইকবাল তালা প্রতিক নিয়ে ৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়ে হারিয়ে দিয়েছেন কায়সার হাসনাতকেই নয় উপজেলা আওয়ামী লীগকে।যা রীতিমতো বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকদের।ক্ষুব্ধ আপনিও হবেন,যখন জানবেন এই ওয়ার্ডের ভোটার দশ চেয়ারম্যানের আটজনই আওয়ামী লীগের আর মেম্বারদের নব্বই শতাংশও আওয়ামী লীগের।যাঁরা ইতিমধ্যে দালাল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে।আওয়ামী লীগের প্রার্থী পেয়েছেন ৪৯ ভোট। সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ওয়ার্ড নং দুইয়ে বিজয়ী হয়েছেন সীমা রানী শিলা।টেবিল ঘড়ি প্রতিকে তিনি পেয়েছেন ৮৩ ভোট।নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নূরজাহান পেয়েছেন ২৩ ভোট। এর আগে সকাল নয়টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত সদরে দুটি ও তিন উপজেলায় তিনটি মোট পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।মোট ৬১০ জন ভোটারের এই ভোট নেওয়া হয় ইভিএমের মাধ্যমে।
ইমা

