আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জিমন্যাস্টিকস বহুল সমাদৃত এবং আলোচিত হলেও বাংলাদেশে খেলাটির তেমন একটা প্রচারণা বা সাফল্য নেই বললেই চলে। তবে কেবল দেশে নয়, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও জিমন্যাস্টিকসে সাফল্য পেতে এবার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশন। বেশ কিছু দিন যাবতই প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাধ্যমে জিমন্যাস্টিকসে সাফল্য পাওয়ার চেস্টা করেছে ফেডারেশন। যে কারণে দেশের জিমন্যাস্টদের জন্য অলিম্পিকে দক্ষিণ কোরিয়াকে পদক পাইয়ে দেওয়া কোচকে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশন। আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন এ কোচের অধীনে সমানতালে অনুশীলন করছেন বাংলাদেশের জিমন্যাস্টরা।
এত দিন শুধুমাত্র পুরুষ জিমন্যাস্টদের নিয়ে ভাবলেও এবার দেশের নারী জিমন্যাস্টদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে দেশের ফেডারেশন। দেশে ভাল জিমন্যস্ট তৈরীতে প্রয়োজন ভাল মানের কোচও।
যা বিবেচনায় রেখে প্রথমবারের মত ঢাকায় আয়োজন করা হয় কোচ প্রশিক্ষণ কোর্স। প্রথমবারের মত ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কমন ট্রেনিং ক্যাম্প ডব্লিউএসি কোচেস’। এশিয়ান জিমন্যাস্টিক ইউনিয়নের পাঁচদিন ব্যাপি কোচেস কোর্স ক্যাম্পে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও কাতারের জিমন্যাস্টিক কোচেরা।
মেয়েদের আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিক এর প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এজিইউ এর মেয়েদের জিমন্যাস্টিক এর টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান রাদিয়া কিজিলগুন।
গত ১১ অক্টোবর কোর্সের উদ্বোধন করেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সচিব পরিমং সিংহ। ঢাকার একটি হোটেলে গতকাল সন্ধ্যায় হয়েছে প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি হিসেবে কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের হাতে উপহার ও সনদপত্র তুলে দেন বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশ অলিম্পি এসেসিয়েশনের (বিওএ) সহ-সভাপদি শেখ বশির আহমেদ মামুন।
অনুষ্ঠান শেষে কোর্স পরিচালক রাদিয়া কথা বলেছেন বাংলাদেশের মহিলা জিমন্যাস্টদের সম্ভাবনা নিয়ে।
এ দেশকে নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা উল্লেখ করে রাদিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশে জিমন্যাস্টিক খুবই সম্ভাবনাময় একটা খেলা। দেশের ছেলেরা ভাল করছে, মেয়েরাও আশা করি সামনে ভাল করবে। এই খেলাটায় একদম মৌলিক বিষয়গুলো অল্প বয়সেই রপ্ত করতে হয়। তাই কোচদেরও খুব যতœবান হতে হবে কারণ একবার ভুল শিখলে সেটা ঠিক করাটা কঠিন।’
বাংলাদেশের জিমন্যাস্টিকসের উন্নয়নে যে কোন সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাসও দেন বর্তমানে কাতারে বসবাসকারী এ নারী কোচ।
বশির আহমেদ মামুন বলেন, ‘আমরা ছেলেদের জন্য কোরিয়া থেকে একজন উন্নতমানের কোচ নিয়ে এসেছি, তার অধীনে ছেলেরা অনুশীলন করছে। এখন মেয়েদের জন্যও আমরা কোচদের তৈরি করছি যাতে মেয়েরাও এগিয়ে যায়’।

