যেসব টূর্নামেন্ট বা সিরিজের লক্ষ্য হয় বড় অর্জনের মিশনে নামার আগে নিজেদের যতোটা সম্ভব মানসিক ও শারীরিক ভাবে ঝালিয়ে নেয়া সেই সকল ম্যাচের জয় পরাজয়ে উল্লসিত বা হতাশ হওয়ার চাইতে বড় হয়ে ওঠে ‘অর্জন’।না,আপনি ভুল শোনেননি।এই ধরনের ম্যাচে পরাজয়েও অনেক প্রাপ্তিযোগ থাকে।তাই পাকিস্তানের কাছে হেরেও বাংলাদেশের প্রাপ্তির খাতায় কিছু যোগ হয়েছে।তাই ম্যাচ রিপোর্ট লিখতে গিয়ে দার্শনিক সূলভ কথাই বলতে হচ্ছে বেশি।অবশ্যই তা সঙ্গত কারণেই।
নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন উপমহাদেশের সব দলকেই ভোগায়।আজকের দুই প্রতিপক্ষ উপমহাদেশের হলেও সাম্প্রতিক সময়ের বিবেচনায় এই কন্ডিশনে পাকিস্তানই ছিলো এগিয়ে।কেননা ইংল্যান্ডের সঙ্গে সাত ম্যাচের সিরিজ এখনো পাকদের জন্য টাটকা।আর ঐতিহ্যগত ভাবেই হ্যাগলি ওভালে বাতাসের রাজত্ব সবসময়।টস কিছুটা আশা জাগালেও বাংলাদেশের একাদশ দেখে ব্যক্তিগত ভাবে দলের পরাজয়টা প্রত্যাশীতই হয়ে উঠেছিলো।ক্রিকেটের এই সংস্করণে আপনি চারজন জেনুইন বোলার নিয়ে জয় তো দূরে,একাদশ গড়তেই সাহসী কোন দল বা ম্যানেজমেন্ট খুঁজে পাবেননা।পরিস্থিতি আজ বাংলাদেশকে হয়তো বাধ্য করেছে পাকিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে তাসকিন,নাসুম,ফিজ ও হাসানের সমন্বয়ে একাদশ সাজাতে।
আজকের ম্যাচ বিশ্লেষণ করলে দেখবেন একজন সাকিব বা ব্যাটিংয়ে পারদর্শী কেউ দলে থাকলে বাংলাদেশ ম্যাচ রের করে নিতে পারতো।এমনকি ইয়াসির রাব্বির ব্যাটিং দেখে মন বলছিলো,পার্টনার হিসেবে সোহান যদি থাকতো তাহলেও বাংলাদেশ জিতে যেতে পারতো।সবই যদি আর কিন্তু সর্বস্ব কথা মনে হলেও এই গ্যাপগুলো চিন্হিত হওয়াই বাংলাদেশের প্রাপ্তি।আগে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের পুরো ইনিংসই রিজওয়ান আলোয় আলোকিত।হ্যাঁ,আগামী বিশ্বকাপে যে পাঁচজনের দিকে পুরো ক্রিকেট দুনিয়ার চোখ আটকে যাবার সম্ভাবনা আছে এই রিজওয়ান তাঁদের একজন।ওঁকে আটকানোর উপর অনেকটা নির্ভর করবে বিপক্ষ দলের জয়। ওঁর ৭৮ রানের ইনিংস আর শান মাসুদের যোগ্য সঙ্গ দেয়া ৩১ রানের উপর ভিত্তি করে পাঁচ উইকেটে ১৬৭ রান তুলেছিলো পাকিস্তান।তাসকিনের বোলিং আর ফিল্ডিংয়ে বেটার ক্যাচিং ছিলো উল্লেখ করার মতো।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মিরাজ,সাব্বির,ভালো সূচনা এনে দিতে পারেনি আজ।লিটন দাস ও আফিফ হোসেন আশা জাগাতে শুরু করেও পারেননি নিজেদের ইনিংসটা বড় করতে।৩৫ রান করে লিটন ও ২৫ রান করে আফিফ হোসেন আউট হয়ে যান।মোসাদ্দেক এসে শূন্য রানে বিদায় নিলে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের আশংকা জেগেছিলো।তারপর ইয়াসির রাব্বির টর্নেডো আফসোস বাড়ায় আর পরাজয়ের ব্যবধান কমায়।
বিশ ওভার শেষে পাঁচ উইকেটে ১৪৬ রানে থেমে ২১ রানে হার দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করে বাংলাদেশ।পাক বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ ওয়াসিম চব্বিশ রানে নেন তিন উইকেট। রিজওয়ান ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান। অন্যদিকে অষ্ট্রেলিয়ার গ্যাবায় স্বাগতিকরা ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় তথা শেষ ম্যাচে ৩১ রানে জিতে প্রস্তুতীটা ভালো করেই শেষ করলো।টস জিতে অষ্ট্রেলিয়াকে আগে ব্যাট করতে পাঠায় ইন্ডিজরা।১০ রানে প্রথম উইকেট হারালেও ডেভিড ওয়ার্নার কে নিয়ে ৮৫ রানের জুটি গড়ে বড় স্কোরের ইঙ্গিত দেন।
৪১ বলে ৭৫ রান করে ওয়ার্নার বিদায় নিলে শেষ দিকে নেমে টম ডেভিড বিশ বলে ৪২ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে বিশ ওভারে সাত উইকেটে ১৭৮ রানে থামে অসিরা।জবাবে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা মিচেল স্টার্কের তোপের মুখে কেউই উল্লেখ করার মতো ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হলে একপেশে হয়ে ওঠে খেলা।বিশ ওভারে আট উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান করে ম্যাচ ও সিরিজ হার
নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ। স্টার্ক মাত্র বিশ রানের বিনিময়ে চার উইকেট তুলে নেন।৭৫ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ ও সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতে নেন ডেভিড ওয়ার্নার।
ইমা

