নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আসন্ন সম্মেলনকে ঘিরে পদ প্রত্যাশী বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিলো গত কয়েকদিন ধরেই।সম্মেলন পর্যন্ত যেতে হলোনা।সম্মেলন প্রস্তুতী সভাতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সামনেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লো দুই পক্ষ।অবস্থা চরম অবনতি ঘটলে চারপাশে ব্যাপক আতংক ছড়িয়ে পড়ে।পেশীশক্তি মুক্ত স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরী করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে নিরাপদে গাড়িতে তুলে দিয়েছেন।ঘটনাটি ঘটেছে ৫ই অক্টোবর বুধবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি টিসি রোডস্থ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের বাসভবনের নিচতলায়।সভায় উপস্থিত থাকা কয়েকজন জানান,সভা চলাকালে মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ এবং হাইব্রিড বিতর্কে দ্বন্ধে¦ জড়িয়ে পড়েন মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সভাপতি মো: জুয়েল হোসেন সমর্থিত সিব্বির গ্রুপ এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া রাজু গ্রুপ। এই তর্কই একসময় মারামারিতে রুপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার বিকালে পূর্ব নির্ধারিত প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু হয় মজিবুর রহমানের বাসভবনের নিচতলায়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া রাজুর সভাপতিত্বে এবং স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা জহিরুল হকের সঞ্চালনায় উক্ত প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সহ-সভাপতি এড. কাজী শাহানারা ইয়াসমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিরাজ বিল্লাহ। প্রধান বক্তা ছিলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মজিবুর রহমান এবং বিশেষ বক্তা হিসেবে ছিলেন, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া। প্রস্তুতিমূলক সভায় আলোচনা শেষে সিদ্ধিরগঞ্জের ৯টি ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দের জীবন বৃত্তান্ত সংগ্রহের সময় হাইব্রীড বিতর্কে দুই গ্রুপ উত্তেজিত হয়ে হট্টগোলে লিপ্ত হয়। এসময় সভা স্থলে দুই গ্রুপের হাতা-হাতি শুরু হলে নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
তাঁরা আরও জানান,মাদক ব্যবসায়ী ও হাইব্রিড হিসেবে চিহ্নিত তেমন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারীই।কমিটিতে আধিপত্য বিস্তারের জন্য মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, ভুমিদস্যু ও হাইব্রীডদেরকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য দু’টি গ্রুপ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে উঠেছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ প্রস্তুতিমূলক সভার আলোচনা শেষে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ওয়ার্ড নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে জীবন বৃত্তান্ত সংগ্রহ করার একপর্যায়ে মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সিব্বির তার কর্মীদের জীবন বৃত্তান্ত ফরম কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের হাতে দেওয়ার জন্য উপস্থাপন করে। এসময় থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জহিরুল হক সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও থানা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বর্তমানে দলে অনেক হাইব্রীড নেতার আবির্ভাব ঘটেছে। তাই কমিটি গঠনের পূর্বে কর্মীদের সিএস, আরএস দেখে কমিটি গঠন করতে হবে। সিদ্ধিরগঞ্জের মোট ১০টি ওয়ার্ড রয়েছে। প্রত্যেকটি ওয়ার্ড থেকে ত্যাগীদের সমন্বয়ে কমিটি করার আহবান জানান তারা। এসময় মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন ও তাঁর অনুসারী সিব্বির আহমেদের গ্রুপ এবং আমিনুল হক ভুঁইয়া রাজুর গ্রুপের মধ্যে হাতা-হাতি শুরু হয়। তা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাকর্মীরা কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পূর্বে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কাজী শাহানারা ইয়াসমিন সভাস্থলে মারামারির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানায়, আমিনুল হক রাজুর পক্ষে স্থানীয় একটি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ি ও কিশোরগ্যাং পরিচালনাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিল। রাজুর পক্ষে তারা পুর্ব থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে আসে। ওই গ্রুপটি রাজুর নির্দেশে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা বলেন, হাইব্রিড ও দলের বাহিরের লোকজন কেনো কমিটিতে আসবে? তখন জুয়েল হোসেনসহ তার অনুসারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে সংঘর্ষে জড়ান। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের উভয়কে থামিয়ে দেন। পরে জুয়েল হোসেন ও সিব্বির আহমেদ মিছিল করতে করতে যাওয়ার সময় মিজমিজি টিসি রোড এলাকায় দ্বিতীয়বারের মতো সংঘর্ষে জড়ান উভয় পক্ষ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জহিরুল হক জানান, আমরা যারা দীর্ঘদিন যাবত আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছি, আমরা আশাবাদী তারাই দলের কমিটিতে স্থান পাবে। তবে আমাদের সাবেক মহানগর কমিটি সভাপতি জুয়েল হোসেন তার নিজস্ব লোকজনকে দিয়ে কমিটি করতে চায়। যারা কখনো দলের জন্য ছিলো না। তাদের কাগজ নিয়ে তিনি নেত্রীর কাছে দেন। অথচ দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন তার কাছে নাই।
মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন বলেছেন, সিদ্ধিরগঞ্জে আগে ওয়ার্ড কমিটি আসবে, তারপর থানা কমিটি আসবে। এ রকমই বলছেন নেতৃবৃন্দরা। আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের কমিটিতে অর্šÍভুক্ত করার প্রসঙ্গে বলেন, আসলে মানুষ কত কথাই বলে। মৌখিক কথা একটা, ডকুমেন্টস আরেক বিষয়। আমাদের সভায় স্বেচ্ছাসেবকলীগের অনেক সিনিয়র নেতারা এসেছিলেন। এখানে আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ যারা দলের জন্য কাজ করেছেন, তারা যাচাই-বাছাই করে দিবে। আমার মতে, সংগঠন করতে টাকা না, মেধা লাগে। আমি যখন মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি ছিলাম, মানুষকে নিয়ে আমি কাজ করেছি। দেন-দরবারের বিষয়ে কে কি বলেছেন, আমি তো কিছু শুনি নাই।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী সভাপতি আলহাজ্ব মজিবুর রহমান বলেন, আমার বাসভবনে থাকাকালীন অবস্থায় কোনো হাতাহাতির ঘটনা হয়নি। নেত্রী শাহানারা ইয়াসমিন চলে যাওয়ার পর আমি নারায়ণগঞ্জ চলে আসছি। পরে শুনলাম আশপাশে পোলাপান নাকি ঝামেলা করেছে।
ইমা

