বৃষ্টির সময় বাতাসের ঝাপটায় বাসা থেকে রাস্তায় পড়ে গিয়েছিল একটি পানকৌড়ি ও বকের দুটি ছানা। সেই বাবা মা হারানো ছানাদের উদ্ধার করে পরম যত্নে বড় করে তুলছেন বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার মোস্তফা ওয়ার্কশপের মেকানিক গোলাম মোস্তফা।
এখন দিব্যি উন্মুক্ত অবস্থায় তার ওয়ার্কশপে বক ও পানকৌড়ির ছানারা বেড়ে উঠছে। বনানীর নির্জন বাসার নিরবতা ভুলে যাওয়া পাখির ছানারা এখন বড় হচ্ছে ওয়ার্কশপে হাতুড়ি পেটার বিকট শব্দ ও চোখ ঝলসানো ঝালাইয়ের আলোকচ্ছটার মধ্যে। তবুও এই ভিন্ন পরিবেশ তাদের কাছে যেন স্বর্গ। কারণ তারা এখানে খুঁজে পেয়েছে হারানো অভিভাবকত্বের ঠিকানা। শুধু এই তিনটি ছানাই নয়। নীড় হারা পাখির ছানাদের কুড়িয়ে এনে লালন পালন করে বড় করাই যেন মেকানিক মোস্তফার মানবিক নেশা।
মোস্তফার ওয়ার্কশপ ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে তার ওয়ার্কশপে রেড়ে উঠছে একটি পানকৌড়ি ও দুটি বকের বাচ্চা। পাখিগুলো সব সময় মুক্ত অবস্থায় থাকে। তার দোকান ও আশপাশের এলাকায় ঘুরে ফিরে কাটে পাখিদের দিন। তবে এলাকার কেউ যাতে পাখিদের কোনো ক্ষতি করতে না পারে তাই পাখিদের গায়ে লাল রং লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। যাতে পাখি দেখেই সবাই বুঝতে পারেন, এই পাখি মোস্তফার ওয়ার্কশপে বেড়ে ওঠা পাখি।
ওয়ার্কশপ মেকানিক গোলাম মোস্তফা বলেন, ওয়ার্কসপের কাজের পাশাপাশি মাঝে মধ্যে তালতলীর নদী ও সমুদ্র উপকূলের জঙ্গলের মধ্যে ছোট খালগুলোতে মাছ ধরি আমি। ঝড়ো বাতাস বৃষ্টিতে অনেক সময় গাছে থাকা পাখির বাসাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাতাসের তোড়ে বাসা থেকে বাচ্চা নিচে পড়ে যায়। 
তখন মা পাখি বাচ্চাগুলোকে আর বাসায় নিতে পারে না। এমন বাচ্চাগুলো কুড়িয়ে পেলে আমি নিয়ে আসি। আমার ওয়ার্কশপের পেছনে নির্মাণ করা বাসায় স্থান হয় সেই পাখির বাচ্চাগুলোর। পাখিদের খাবার জোগাতে ওয়ার্কশপের কাজের ফাঁকে খাল থেকে মাছ ধরে আনি।
তিনি আরও বলেন, এর আগে আমি কয়েকটি পাখির বাচ্চা বড় করে ছেড়ে দিয়েছি। তারা নতুনভাবে জীবন শুরু করেছে। এবারের বকের বাচ্চাগুলোও উড়তে শিখলে তাদের বনে ছেড়ে দেই। কিন্তু তারা উড়ে না গিয়ে আবার ওয়ার্কশপে ফিরে আসে। এখন সবসময় এখানেই ছাড়া অবস্থায় ঘুরে বেড়ায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস সালাম, মোস্তাফিজ ও রুবেল বলেন, তালতলী বাজারে কোনো কাজে আসলে মাঝে মধ্যেই চোখ পড়ে মোস্তফার পাখিগুলোর দিকে। দেখা যায় মোস্তফা বকের বাচ্চা বা পানকৌড়ির বাচ্চাদের খাওয়াচ্ছেন। বাচ্চাগুলো যদি মোস্তফার চোখে না পড়তো তাহলে হয়তো জঙ্গলেই মারা যেত অথবা অন্য পশুর শিকারে পরিণত হতো। এমন পাখিপ্রেমের কারণে মোস্তফার জন্য শুভ কামনা।
এ বিষয়ে তালতলী বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। আমরা এ সম্পর্কে খোজঁখবর নিয়ে দেখছি। বন্যপ্রাণী রক্ষায় তালতলীতে আমাদের কিছু স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। মোস্তফা সেই স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে কেউ না হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউডি

