সিআরবি থেকে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প সরিয়ে নিতে এবার মাঠে নেমেছেন নারীরা। রোববার বিকেলে সিআরবিতে নারী সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারখানেক নারী অংশ নেন।
এ সময় নাগরিক সমাজের নেতারা বলেন, সিআরবিতে শুধু হাসপাতালই নয়, কোনো ধরনের স্থাপনাই নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে। প্রতিদিনের মতো রোববার নারী সমাবেশে ছিল প্রতিবাদী গানের আয়োজন। চট্টগ্রামের টিভি ও বেতারসহ বিভিন্ন শিল্পী সিআরবি রক্ষার ‘থিম সং’-এর পাশাপাশি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। গানে গানে জানান প্রতিবাদ।
প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অনুপম সেন বলেন, ‘আমরা প্রাণ-প্রকৃতির প্রতি সুবিচার করিনি বলেই করোনার ছোবলে আজ মানবজাতি বিপন্ন। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রকৃতির ভারসাম্য অপরিহার্য। চট্টগ্রাম শহর পাহাড়, নদী আর সাগর ঘেরা জনপদ। প্রকৃতির বিপুল ঐশ্বর্য নিয়ে এই শহর গড়ে উঠেছে। অথচ আমরা নিজ হাতে সেই ঐশ্বর্যকে হত্যা করতে বসেছি। সিআরবির প্রাণ-প্রকৃতি বিপন্ন করে যারা হাসপাতাল করার অপচেষ্টা করছে, আমি আহ্বান জানাচ্ছি চট্টগ্রামবাসীর কাছে— তাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলুন।’
সভাপতির বক্তব্যে নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন বলেন, ‘সিআরবিতে বেসরকারি হাসপাতাল নির্মাণের জন্য কারা, কোন মহল ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে যাচ্ছে, তা আজ পরিষ্কার। আমরাও হাসপাতাল চাই। হাসপাতাল করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর, রেল এমনকি সিটি করপোরেশনেরও অনেক জায়গা আছে। কিন্তু সিআরবির মতো একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যম-িত জায়গায় আমরা হাসপাতাল চাই না। এত প্রতিবাদের পরও সিআরবিতে হাসপাতাল করার পেছনে যারা উঠে-পড়ে লেগেছেন, তাদের স্বার্থটা কি? আসলে বর্তমান সরকারকে গণবিচ্ছিন্ন করার জন্য একটি অশুভ শক্তি চক্রান্ত করছে। এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুচ। নগর মহিলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর নীলু নাগের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন, মমতাজ খান, মালেকা চৌধুরী, হাসিনা আক্তার টুনু, শারমিন ফারুক, হুরে আরা বিউটি, লায়লা আক্তার এটলী, আঞ্জুমান আরা, তসলিমা নূরজাহান রুবি, আয়েশা ইব্রাহিম, উম্মে হাবিবা গিয়াস, জেনিফার আলম, কান্তা ইসলাম মিনু।

