গতকাল ২৫শে সেপ্টেম্বর ভারত ও পাকিস্তান দুই দলের জন্যই জয়টা খুবই দরকার ছিলো।ভারত অষ্ট্রেলিয়া ম্যাচটি ছিল সিরিজ নির্ধারনী।যে দল জিতবে সিরিজ তাঁদের হবে।আগের দুই ম্যাচের ফল ১-১ ছিলো।অন্যদিকে ১৭ বছর পর পাকিস্তান
সফরে এসে ইংল্যান্ড আগের তিন ম্যাচের দুটো জিতে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলো।এই ম্যাচ হেরে গেলে সিরিজে ফিরে আসা অনেক কঠিন হয়ে যেতো পাকিস্তানের জন্য।তাই জয়টা তাঁদের খুবই দরকার ছিলো।বাংলাদেশে দুই দলেরই প্রচুর সমর্থক রয়েছে।স্বাভাবিক ভাবেই ফল জানতে আগ্রহী তাঁরা।সমর্থকদের জন্য একই রিপোর্টে দুই দলের খবর পরিবেশন করা হলো।
ভারত বনাম অষ্ট্রেলিয়াঃ-
আগে ব্যাট করতে নেমে সফরকারী অষ্ট্রেলিয়া ২০ ওভারে সাত উইকেটে ১৮৬ রান করে।দলের পক্ষে টম ডেভিড ২৭ বলে ৫৪,ক্যামেরন গ্রিন ২১ বলে ৫২ রানের দুটো ঝড়ো ইনিংস খেললেও বাকিরা ব্যাট হাতে তেমন কিছু করতে ব্যর্থ হলে ১৮৬ রানেই থামতে হয় অষ্ট্রেলিয়াকে।ভারতের পক্ষে অক্ষর প্যাটেল ৩৩ রানের বিনিময়ে তিনটি উইকেট নেন।
১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ৫ রানে প্রথম,৩০ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারিয়ে একটু চাপে
পড়ে যায় ভারত।কিন্তু সূর্য কুমার যাদবের সাথে বিঢ়াট কোহলি পাল্টা অসি বোলারদের উপর চড়াও হলে ম্যাচ ভারতের দিকে হেলে পড়ে।দু’জন মিলে ১০৪ রানের পার্টনারশিপ করেন।মূলতঃ এই জুটিই অসিদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়।পরে এই
দু’জন আউট হয়ে গেলে ফিনিশিং টাচটি দেন হার্দিক পান্ডিয়া।১৬ বলে ২৫ রানের সময়োপযোগী
ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে ফেরেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ- অষ্ট্রেলিয়া ১৮৬/৭(২০ ওভার),
টম ডেভিড ৫৪(২৭),ক্যামেরন গ্রিন ৫২(২১)।
অক্ষর প্যাটেল ৩/৩৩।
ভারত ১৮৭/৪(১৯.৫),
সূর্যকুমার যাদব ৬৯(৩৬),বিঢ়াট কোহলি ৬৩(৪৮)।
ড্যানিয়েল স্যাম ২/৩৩।
সিরিজের ফলাফলঃ- ২-১ ব্যবধানে ভারত জয়ী।
**ম্যান অফ দ্য সিরিজঃ-অক্ষর প্যাটেল।
**ম্যান অফ দ্য ম্যাচঃ-সূর্যকুমার যাদব।
পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ডঃ-
ক্রিকেট বিশ্বে কেনো পাকিস্তান দলকে আনপ্রেডিক্টেবল দল বলা হয় গতকাল তা আরেক বার প্রত্যক্ষ করলো ক্রিকেট বিশ্ব।ম্যাচের একটাসময় মনে হচ্ছিল পাকিস্তানই জিততে চলেছে।
কিন্তু এক ওভার পরেই আবার ইংল্যান্ডের জয় কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে যায়।গ্যালারী ফাঁকা হতে শুরু করে।নিশ্চিত হেরে যেতে থাকা ম্যাচটি দারুণ নাটকীয়তায় শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান জিতে যায়।একটু খোলাসা করে বলছি।১৭ তম ওভার শেষে ইংল্যান্ডের জন্য সমীকরণ ছিলো ১৮ বলে ৩৫ রান।হাতে উইকেট তিনটি।স্বীকৃত ব্যাটার বলতে
উইকেটে লিয়াম ডসন।যে কিনা আগে বোলার পরে ব্যাটার।১৮ নম্বর ওভার করতে বাবর আজম
বল তুলে দেন হাসনাইনের হাতে।ওভারের ছয়টি বলই খেলেন ডসন।২৬ রান তুলে নেন ঐ ওভার থেকে।১২ বলে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের দরকার ৯ রান।হারিস রউফ ১৯ নম্বর ওভারে এসে বাউন্ডারি হজম করে লক্ষ্যটা ১০ বলে ৫ রানে নিয়ে আসেন।
তৃতীয় ও চতুর্থ পরপর দুই বলে ডসন সহ দুই ব্যাটারকে আউট করে হ্যাট্রিকের সম্ভাবনা জাগান।
হ্যাট্রিক হয়নি।একটি লেগবাই রান নিয়ে ঐ ওভার শেষ করে ইংল্যান্ড।ছয় বলে চার রান দরকার ইংল্যান্ডের।মোহাম্মদ নওয়াজের প্রথম বল ডট, পরের বলে শেষ উইকেটের পতন রান আউটের মাধ্যমে।বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে বাবর- রিজওয়ানরা।
এর আগে টসে জিতে পাকিস্তানকে ব্যাট করতে পাঠায় ইংল্যান্ড দলপতি।ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ রিজওয়ানের আরেকটি ধ্রুপদী ইনিংস ৮৮(৬৭) ও ক্যাপ্টেন বাবর আজমের ৩৬(২৮),শেষ দিকে শান মাসুদের ২১(১৯) সম্মিলিত পারফর্মে চার উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রান করে পাকিস্তান।
১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ইংল্যান্ডের টপঅর্ডার।কেবল চার
ব্যাটসম্যান ডাবল ফিগার রান করেন।আর তাতেই ম্যাচ জিতে যাচ্ছিলো তাঁরা।ঐ চারজনের একজন যদি আর দু-চার বল খেলে যেতে পারতেন তাহলে গল্পটা ভিন্নই হতো।শেষ পর্যন্ত ১৯.২ ওভারে ইংল্যান্ড ১৬৩ রানে অলআউট হয়ে গেলে তিন রানের অবিস্মরণীয় এক জয় পায় পাকিস্তান।
মোহাম্মদ রিজওয়ানের ৮৮ রানের ইনিংস সত্ত্বেও হারিস রউফ ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান।
সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ-পাকিস্তান ১৬৬/৪(২০ ওভার),
রিজওয়ান ৮৮(৬৭),বাবর আজম ৩৬(২৮)।
টোপলি ২/৩৭,ডসন ১/৩২।
ইংল্যান্ড ১৬৩/১০(১৯.২),লিয়াম ডসন ৩৪(১৭),
হ্যারি ব্রুক ৩৪(২৯),বেন ডাকেট ৩৩(২৮),মঈন আলী ২৯(২০)।হারিস রউফ ৩/৩২,মোঃ নওয়াজ
৩/৩৫,হাসনাইন২/৪০।
সিরিজঃ- ৭ ম্যাচ সিরিজে ২-২ সমতা।
ইমা

