দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষের পথে। ইতিমধ্যে প্রায় ৬০ কিলোমিটার রেললাইন বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ। তবে ২০২৩ সালের নভেম্বরে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।
এমন অবস্থায় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে ট্রেন চলাচল শুরু করতে চায় বাংলাদেশ রেলওয়ে। কিন্তু প্রকল্পের আওতাধীন কালুরঘাট নতুন সেতুটি এই সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হওয়া অসম্ভব। তাই পুরানো সেতু দিয়েই ট্রেন কক্সবাজার নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সেক্ষেত্রে শতাধিক বছর ধরে চালু থাকা কালুরঘাট সেতুটিকে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংস্কার কাজের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। পরামর্শ ফি বাবদ ৮ কোটি টাকায় এই চুক্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মফিজুর রহমান বলেন, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত। ২০২৩ সালের মধ্যে আমাদের ট্রেন চালাতে হবে। সে লক্ষ্যে আগামী বছরের মধ্যে আমরা সকল কাজ শেষ করতে চাই।
এই ব্যাপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী আবু জাফর মিয়া বলেন, সেতুটি কিভাবে সংস্কার করা হবে সে ব্যাপারে পরামর্শ প্রদানের ব্যাপারে বুয়েটের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। তারা সেতুর ফিজিক্যাল স্টাডি এবং ডিজাইন করে আমাদেরকে প্রতিবেদন দিবেন। বুয়েট ফ্রান্সের একটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় কাজ করবে। পুরাতন কালুরঘাট সেতু মেরামত করে সে সেতু দিয়েই প্রাথমিক ভাবে কক্সবাজার রুটের ট্রেন চলবে। প্রথম দিকে সেতু পারাপারের সময় ছোট মিটারগেজ ইঞ্জিন দিয়ে ট্রেন চালানো হবে। প্রাথমিক ভাবে কক্সবাজার রুটে দিনে একটি ট্রেন চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতিপূর্বে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্পের আওতাধীন কালুরঘাট সেতুর কালুরঘাট সেতুর নকশা তৃতীয় দফায় পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রথম নকশায় সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ১৫১ কোটি টাকা। দ্বিতীয় নকশায় ৬ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। বর্তমানে প্রণীত তৃতীয় নকশায় ব্যয় বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা।
দ্বিতীয় নকশায় কথা ছিল কালুরঘাট সেতুটি পদ্মা সেতুর আদলে করা হবে। উপরতলা দিয়ে গাড়ি আর নিচতলা দিয়ে চলার কথা ছিল ট্রেন। আবার তৃতীয় নকশায় সেটি পরিবর্তন করে সড়ক ও রেলের জন্য চার লেনের সেতু করার পরিকল্পনা হয়েছে। দুই লেনে চলবে গাড়ি। বাকি দুই লেনে চলবে ট্রেন।
কালুরঘাট সেতুর ফোকাল পারসন ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নতুন নকশায় সেতু তৈরিতে সম্মত হয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন নকশা চুড়ান্ত হওয়ায় এখন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ শুরু হবে। তারপর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে। এগুলো শেষ করতে ২০২৩ সালের পুরো সময় লাগতে পারে। ২০২৪ সালে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হতে প্রায় তিন বছর সময় লাগবে। তাই ২০২৩ সাল অর্থাৎ নির্বাচনের আগে কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু করতে কালুরঘাট পুরানো সেতু দিয়েই ট্রেন চলাচলের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

