রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

দোয়া কামনা

আন্তর্জাতিক খ্যাতিস্পন্ন নিউরোসার্জন অধ্যাপক ডা. এল এ কাদেরী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে

- Advertisement -
Single page 1st Paragraph

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নিউরোসার্জন অধ্যাপক ডাঃ এল.এ. কাদেরী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চট্টগ্রামের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন আছেন।চিকিৎসকরা তাঁকে দেখার জন্য ভিড় না করে দোয়া করতে পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।সামাজিক দায়িত্ব ও পারস্পরিক সহমর্মিতার নৈতিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী অধ্যাপক ডাঃ এল.এ. কাদেরী বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ প্রাক্তন ছাত্র সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বি এম এ) চট্টগ্রাম শাখার দু’বার নির্বাচিত সভাপতি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি, বাংলাদেশ সোসাইটি অব সার্জনস্ এর সভাপতি, বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউরোসার্জন’ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি, বহুবার চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি, সিনিয়র ডক্টরস ক্লাব সভাপতি ও চট্টগ্রাম শিশু হাসপাতালের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। বি এম এ সভাপতি থাকাকালীণ সময়ে’৯০ সালে তিনি পেশাজীবী জনতার নেতা হিসেবে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ও সাহসী ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে তিনি ইউএসটিসি’র প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করেন। International Biographical Centre তাকে ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বে সম্মানিত করেন এবং ঐ বছরই Dictionary of International Biography তে বিশ্বের খ্যাতনামা ব্যক্তিদের সাথে তাঁর জীবনি প্রকাশিত হয়।
অধ্যাপক ডাঃ এল.এ. কাদেরী বিগত শতাব্দীর মাঝ ভাগের আগে ১৯৪১ সালের ১লা অক্টোবর চট্টগ্রাম মহানগরীর ৩৪৫, দেওয়ানবাজার নবাব সিরাজদৌল্লা রোডস্থ পৈত্রিক বাড়ীতে জন্ম গ্রহণ করেন। চট্টগ্রাম শহরেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়। ১৯৫৭ সালে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৫৯ সালে কৃতিত্বের সাথে আই এস সি পাশ করার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে এম বি বি এস এ ভর্তি হন। ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত এম বি বি এস ফাইনাল পরীক্ষায় সারাদেশের মধ্যে স্বর্ণপদকসহ প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এরপর ১৯৬৫ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে ১৯৬৮ সালের ২৯শে এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাউস সার্জন, সিনিয়র হাউস সার্জন ও ইমারজেন্সী মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬৮ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উচ্চতর শিক্ষার জন্য ডাঃ এল.এ. কাদেরী বিলাত যান। সেখানে তিনি ১৯৬৮ সালে Diploma in Venereolog, ১৯৭১ সালে Neurosurgery তে সারা পৃথিবীর ছাত্রদের মধ্যে কৃতিত্বের সাথে পাস করেন এবং ১৯৭৭ সালে Microsurgery উপর ডিগ্রী নেন। ডাঃ এল.এ. কাদেরীর পিতা মরহুম আবদুল লতিফ উকিল ছিলেন বৃট্রিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনে স্বাধীণতা সংগ্রামী।চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির প্রথম মুসলিম সভাপতি, নিখিল ভারত মুসলিম লীগ, চট্টগ্রাম শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।১৯৭৮ সালে অধ্যাপক ডাঃ এল.এ. কাদেরী তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের লিখিত অনুরোধে স্বদেশে ফিরে আসেন। সে সময়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, পরবর্তীতে দেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডাঃ বদরুজদোজা চৌধুরী ঢাকার নিউরোসার্জারী বিভাগে যোগ দিতে বললে ডাঃ এল.এ. কাদেরী স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নিউরোসার্জারী বিভাগ খোলার সুযোগ দিতে অনুরোধ জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই অনুরোধ রক্ষা করেন। সেই সময়েই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নিউরোসার্জারী বিভাগ খোলা হয়। অধ্যাপক কাদেরী শুরু থেকে অবসর গ্রহণের আগ পর্যন্ত এই বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে লন্ডনে থাকা অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বলিষ্ট ভূমিকা রাখেন। লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশের চিকিৎসকদের নিয়ে ‘‘বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন” নামে সংগঠন করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তুলতে সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।ডাঃ এল.এ. কাদেরীর গভীর মানবিক অনুভূতি।গ্রামের বাড়ী হাটহাজারী সদর/ হাটহাজারী পৌরসভার ফটিকা গ্রামে দিন মজুর-খেত মজুরদের আর্থিক দুর্দশা দেখে তিনি খুবই ব্যথিত হতেন। তাদের দারিদ্র বিমোচন ও সমৃদ্ধির জন্য তিনি গ্রহণ করেন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ। ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তিনি শতাধিক দিন ও ক্ষেত মজুরকে Human Holler, বহু রাজমিস্ত্রি ও সূতার মিস্ত্রিকে কাজের সরঞ্জামাদি কিনে দেন। হাটহাজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আবদুল লতিফ উকিল ভবন এবং হাটহাজারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ডা. এল.এ কাদের ভবন নির্মাণে তিনি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। বিত্তহীন ও দুঃস্থ মহিলাদের স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করেন।
স্ত্রী সুরাইয়া কাদেরী, পুত্র ইঞ্জিনিয়ার রিয়াদ কাদেরী, ছোট দুই ভাই সাংবাদিক-মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত ও আবুল মোহসেনাত কাদেরী (সেখু) সহ দেশ-বিদেশে অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী এবং শুভাকাঙ্ক্ষী রযেছেন।

এই বিভাগের সব খবর

এইচএসসিতে চট্টগ্রাম বোর্ডে কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে পাসের হার। ২০২২ সালে যেখানে প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮০ জনের...

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫...

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও বিকল্প অর্থায়নে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিকল্প অর্থায়নের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী...

সর্বশেষ

এইচএসসিতে চট্টগ্রাম বোর্ডে কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাঁচ বছর...

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার...

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও বিকল্প অর্থায়নে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং অবকাঠামো উন্নয়ন...

সৃজনশীলতার ধারাবাহিকতায় শিশুসাহিত্যে উল্লেখযোগ্য বাঁক পরিবর্তন হয়েছে

বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমি আয়োজিত দুদিনব্যাপী শিশুসাহিত্য উৎসবের উদ্বোধনী দিনে...

জাপানের সঙ্গে ইপিএ দ্রুত কার্যকর হলে বাড়বে রপ্তানি ও বিনিয়োগ

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করা...

বাংলাদেশের সঙ্গে পর্যটন সহযোগিতা বাড়াতে চায় ফিলিপাইন

বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে পর্যটন সহযোগিতা সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত...