চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকার অবৈধ বসবাসকারীদের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ছয়টি মামলা হয়েছে। বুধবার দিনগত রাতে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করে। এসব মামলায় প্রায় আড়াইশজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে ঘটনার ২৪ ঘণ্টায়ও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ছয়টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় দুই থেকে আড়াইশ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার দুপুর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফৌজদারহাট লিংক রোডে অবস্থান নেয় জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরের কয়েকশ অবৈধ দখলদার। তারা বিচ্ছিন্নকৃত বিদ্যুৎ ও পানির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত তারা সড়কে অবস্থান করে। এতে দুদিকে হাজার হাজার যানবাহন আটকা করে। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের। যানজটে আটকে পড়ে দুর্ভোগে পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী যাত্রীরা। পণ্যবোঝাই ট্রাক-কাভার্ডভ্যানও আটকা পড়ে এ যানজটে। পরে পুলিশ লাটিচার্জ করলে পুলিশেরওপর হামলা চালায় অবস্থানকারীরা।
উল্লেখ্য, সীতাকুণ্ড ও বায়েজিদ সীমানা এলাকার জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় সরকারি খাসজমি দখল করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল বেশ কয়েকটি গ্রুপ। পুলিশ-র্যাব বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করলেও তারা দ্রুততম সময়ে জামিন নিয়ে এসে পুনরায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছিল। মোশারফ ও ইয়াসিন বাহিনী নামের দুটো বড় সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে ওই এলাকায়। বর্তমানে দুই বাহিনীপ্রধান গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। কারাগারে অবস্থান নিয়েও তারা জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিলেন।
প্রশাসনের দাবি, বিগত সময়ে প্রশাসনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতো সন্ত্রাসীরা। ওই স্থানে বাইরের লোকজন প্রবেশ করতে পারতো না। তারা সরকারি পাহাড় কেটে প্লট বানিয়ে কম আয়ের মানুষের কাছে বিক্রি করে আসছিল। এখানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ২০-২২ টাকা করে বিক্রি করে আসছিল ইয়াসিন ও মোশারফ বাহিনী।

