রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

 মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দম্প‌তি ১৭ বছর পর গ্রেপ্তার

- Advertisement -
Single page 1st Paragraph

ঢাকার ধামরাই এলাকায় যৌতুকের টাকা না পেয়ে সামিনা নামের একজন গৃহবধূকে নির্যাতন ও পুড়িয়ে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ১৭ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, আব্দুর রহিম (৬৪) ও রোকেয়া বেগম (৫০)। তারা সম্পর্কে হত্যার শিকার সামিনার স্বামী জাফরের বড় বোন ও দুলাভাই।

সোমবার (২২ আগস্ট) চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ থানার নারায়ণপুর গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার বিবরণ থেকে জানা গে‌ছে, ২০০৩ সালে সাভারের কাউন্দিয়া নিবাসী সামিনার সঙ্গে বক্তারপুরের জাফরের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।

বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে ক‌নেপক্ষ সাধ্য অনুযায়ী নগদ টাকা পয়সা, আসবাসপত্র এবং ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী প্রদান করেন। কিন্তু স্বামী জাফর বিয়ের পর থেকেই যৌতুক হিসেবে আরও টাকার জন্য স্ত্রী সামিনার ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকেন।

একসময় বাবার বাড়ি থেকে ১৬ হাজার টাকার আনার জন্য সা‌মিনাকে চাপ দিতে থাকেন জাফর। পরে সামিনার দরিদ্র বাবা জুরা মিয়া ছয় হাজার টাকা দেয়। বাকি টাকার জন্য স্বামী জাফর, রোকেয়া ও তার স্বামী আব্দুর রহিমসহ অন্য আসামিরা শারীরিকভাবে নির্যাতনসহ মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকে। টাকা এনে দেয়ার জন্য সামিনার মুখে সিগারেটের আগুন দিয়েও নির্যাতন করে জাফর। ১০ হাজার টাকা জাফর তার বোন রোকেয়াকে বিদেশে যাওয়ার জন্য দেয়ার কথা ছিলো।

একপর্যা‌য়ে ২০০৫ সালের ৭ জুন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সামিনাকে ফুসলিয়ে রোকেয়া-রহিম দম্পতির ধামরাই থানাধীন সৈয়দপুরের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে জাফর যৌতুকের বাকি টাকা দাবি করলে সামিনা জানান, তার বাবা আর টাকা দিতে পারবে না। স্বামী জাফর একথা শুনেই সবার সামনে সামিনাকে শারীরিক নির্যাতন শুরু করে এবং মারধরের একপর্যায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে আসে। সামিনার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নয়ারহাট গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল, পরে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন‌দিন পর ১০ জুন সামিনা মারা যান। তবে মৃত্যুর আগে এ ঘটনায় জড়িত সবার নামসহ ঘটনার জবানবন্দি নেয় পুলিশ। জবানবন্দি অনুযায়ী পরে তার মা নাজমা বেগম স্বামী জাফরকে মূল অভিযুক্ত, জাফরের বড় ভাই জাহাঙ্গীর, সালেক, জাফরের বড় বোন রোকেয়া ও তার স্বামী আব্দুর রহিম এবং জাফরের মামা ফেলানিয়াসহ মোট ৬ জনকে আসামি করে ধামরাই থানায় মামলা করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষে ভিকটিমের পরিবারকে আদালতে এ মামলা পরিচালনা সহায়তা দেয়া হয়।

পু‌লিশ ২০০৫ সালের ৩১ আগস্ট তদন্ত শেষে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সব আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৮ সালের ৫ জুলাই ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং-৯ এর বিচারক জাফর, জাহাঙ্গীর, সালেক, রোকেয়া, আব্দুর রহিম ও ফেলানিয়াকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। এছাড়া প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডেরও আদেশ দেন। ঘটনার পর বড়ভাই জাহাঙ্গীর ছাড়া এ মামলার সব আসামি গ্রেপ্তার হয়। মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জাফর আগে থেকে জেল হাজতে রয়েছেন। বড় ভাই সালেক ও মামা ফেলানিয়া মামলা চলাকালীন গ্রেপ্তার হয়ে এক বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পায় এবং বর্তমানে তারা পলাতক।

ডিআই‌জি মোজা‌ম্মেল হক ব‌লেন, গ্রেপ্তার আব্দুর রহিম ১১ মাস ও রোকেয়া ১৭ মাস কারাভোগের পর ২০০৬ সালের শেষের দিকে জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান। রায়ের সময় শুধুমাত্র স্বামী জাফর আদালতে হাজির ছিলেন, বাকি আসামি পলাতক ছিলেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ‌সোমবার রাতে রোকেয়া ও রহিম গ্রেপ্তার হয়। তবে এখনো এই মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরও ৩ আসামি পলাতক রয়েছে।

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক গ্রেপ্তারকৃত‌দের পা‌লি‌য়ে থাকার কৌশ‌লের বিষ‌য়ে ব‌লেন, গ্রেপ্তার আব্দুর রহিম রায়ের পর থেকে ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকায় পেশা পরিবর্তন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলো। কখনো সে তালা-চাবি তৈরি, কখনো বাবুর্চির হেলপার আবার কখনো শরবত বিক্রি, এমনকি বিভিন্ন মাজারের কর্মী হিসেবে আত্মগোপনে থেকে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। তিনি কখনোই এক জায়গায় দীর্ঘ সময় বসবাস করতেন না। গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত আর কখনই নিজ বাড়িতে ফিরে যাননি।

ইমা

এই বিভাগের সব খবর

এইচএসসিতে চট্টগ্রাম বোর্ডে কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে পাসের হার। ২০২২ সালে যেখানে প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮০ জনের...

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫...

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও বিকল্প অর্থায়নে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিকল্প অর্থায়নের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী...

সর্বশেষ

এইচএসসিতে চট্টগ্রাম বোর্ডে কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাঁচ বছর...

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার...

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও বিকল্প অর্থায়নে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং অবকাঠামো উন্নয়ন...

সৃজনশীলতার ধারাবাহিকতায় শিশুসাহিত্যে উল্লেখযোগ্য বাঁক পরিবর্তন হয়েছে

বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমি আয়োজিত দুদিনব্যাপী শিশুসাহিত্য উৎসবের উদ্বোধনী দিনে...

জাপানের সঙ্গে ইপিএ দ্রুত কার্যকর হলে বাড়বে রপ্তানি ও বিনিয়োগ

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করা...

বাংলাদেশের সঙ্গে পর্যটন সহযোগিতা বাড়াতে চায় ফিলিপাইন

বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে পর্যটন সহযোগিতা সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত...