চট্টগ্রামের পটিয়ায় সন্তানের গুলিতে প্রয়াত জাতীয় পার্টি নেতার স্ত্রীর মৃত্যুতে ছেলে মঈনুদ্দিন মো. মাইনুলের (৩০) বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাতে মাইনুলের বোন শায়লা শারমিন নিপা বাদী হয়ে পটিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
পটিয়া থানার ওসি রেজাউল করিম মজুমদার বলেন, মঙ্গলবার রাতেই মাইনুলকে আসামী করে তার বড় বোন শায়লা শারমিন নিপা বাদী হয়ে মামলা করেছে। আমরা আসামীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, আসামীকে দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার করে তাকে আইনের আওতায় আনবো। এর আগে ১৬ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে পটিয়া পৌরসদরের ৫নং ওয়ার্ডের সবজার পাড়ার নিজ বাড়িতে ছেলের গুলিতে জাতীয় পার্টির প্রয়াত নেতা শামসুল আলম মাস্টারের স্ত্রী জেসমিন আক্তার (৫০) নিহত হন। ঘটনার পর থেকে হত্যাকারী ছেলে মাইনুল পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে।
পুলিশের ধারণা, পিস্তলের গুলিতে জেসমিন আক্তার প্রাণ হারালেও উদ্ধারকৃত কার্তুজ পিস্তলের নয়। কার্তুজগুলো বৈধ কি না, তাও নিশ্চিত করতে পারেননি পুলিশ।
প্রসঙ্গত, শামসুল আলম মাস্টার গত ১৩ জুলাই অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যান। তিনি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৯০ সালের পর দুই মেয়াদে পটিয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শামসুল আলম মারা যাওয়ার পর তার রেখে যাওয়া নগদ টাকা ও ব্যাংক ব্যালেন্স নিয়ে মা জেসমিন আক্তারের সাথে ছেলে মাইনুলের মনোমালিন্য চলে আসছিল। শামসুল মাস্টারের দুই ছেলেমেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। বাবা মারা যাওয়ার পর মেয়ে শায়লা শারমিন নিপা দেশে আসেন। বাবার ৪০ দিন জেয়াফত দেওয়ার পর তার অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাওয়ার কথা ছিল। সাথে মা জেসমিন আকতারকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও ছিল।
নিকটাত্মীয়রা জানান, বাবার রেখে যাওয়া ব্যাংক ব্যালেন্সের নমিনি পরিবর্তনের জন্য মাকে চাপ দিয়ে আসছিলেন মাইনুল। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় জনতা ব্যাংক এবং ব্রাক ব্যাংকে গিয়েছিলেন মাইনুল। ব্যাংক থেকে ঘরে ফিরে মায়ের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মাকে অস্ত্র দিয়ে গুলি করে। পরে আসেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় জেনারেল প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

