দেশজুড়ে গ্রামগঞ্জে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠেছে অনুমোদনহীন সুদকারবারি ব্যক্তি (মহাজন)ও প্রতিষ্ঠান। এধরণের ব্যবসা এখন চট্টগ্রামের রাউজানে জমজমাটভাবে চলছে, যা চোখে পড়ার মত। এসব অবৈধ ব্যবসা প্রশাসনের নাকের ডগায় চললেও অলৌকিক কারণে তারা নীরব ভুমিকা পালন করে চলেছেন। এছাড়া বিভিন্ন ভুঁইফোড় সমিতি ও এনজিওর নামে সুদকারবারি ব্যবসা চালিয়ে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে জানান অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।
জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠান মানুষের কাছ থেকে অস্বাভাবিক চড়া সুদ আদায় করছে। এদের খপ্পরে পড়ে মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে। এছাড়াও এনজিওগুলো ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা।
এসব প্রাতিষ্ঠানিক ঋণদান সংস্থার পাশাপাশি ব্যক্তি কেন্দ্রিক ঋণ দান ব্যবসা চলছে। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা যায়, সুদখোর মহাজনরা ঋণ দান করে মাসিক শতকরা ১৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত সুদ আদায় করছে। এরা পাঁচ দশ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ত্রিশ /চল্লিশ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিয়ে থাকে।
ঋণ দান কালে এরা ঋণ গ্রহণকারীর কাছ থেকে ব্যাংকের খালি পাতার চেকে সই নিয়ে থাকে। এর পাশাপাশি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে থাকে। টাকা পরিশোধ করতে না পারলে ব্ল্যাংক চেকের পাতায় ইচ্ছামত অংক বসিয়ে নেয়। তারপর মামলা মোকদ্দমার ভয় দেখিয়ে চাপ দিতে থাকে। কোনো কোনো এমন প্রতিষ্ঠান আদালতে মামলা ঠুকে দেয়। এরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে টু শব্দ করতে পারে না।
এসব অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর অনিবন্ধিত ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সমবায় সমিতি বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। দেশজুড়ে যেসব সুদকারবারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুদ নেয়ার অনুমোদন নেই, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আদেশে অনুমোদনহীন ক্ষুদ্রঋণের ব্যবসা নিয়ে তদন্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। আদেশের অনুলিপি পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে এ কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তের সময় যদি অননুমোদিত বা লাইসেন্স ছাড়া ক্ষুদ্রঋণ কারবারি সমবায়, বা কোনো অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, তাহলে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেসব প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় বন্ধের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা সমবায় কর্মকর্তা মুরাদ আহাম্মদ সাপ্তাহিক স্লোগানকে বলেন, জেলার প্রতিটি উপজেলায় আমাদের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেই সাথে সাথে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

