সামরিক স্বৈরশাসক আমলে পটিয়ার দোর্দণ্ড প্রতাপশালী রাজনীতিক ‘পাগলা সামশু’ খ্যাত জাতীয় পার্টির (এরশাদ) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও পটিয়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম মাস্টার মারা গেছেন। বুধবার (১৩ জুলাই) দুপুর ২টায় চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কন্যা, আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মী ও অন্ধভক্ত রেখে গেছেন। তিনি পটিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সবজার পাড়া এলাকার মরহুম আমিনুর রহমানের দ্বিতীয় পুত্র। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
তিনি প্রথম ১৯৮৭ সালে অধুনালুপ্ত পটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পটিয়া পৌরসভা গঠিত হলে প্রথমে প্রশাসক নিযুক্ত হন। পরে দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জনপ্রিয় এই জাপা নেতা। সত্তর ও আশির দশকে তিনি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ও পরে পটিয়ায় বাসদ প্রতিষ্ঠায় অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন। এছাড়া প্রগতিশীল রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পৃষ্ঠপোষকতা করে গেছেন। নব্বইয়ের দশকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গ্রাম পাহারা দিয়েছেন।
শামসুল আলম মাস্টারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) দুপুর ২টায় পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
সামশু মাস্টারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন, জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদের, কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও জাতীয় পার্টি প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক সাংসদ গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম প্রমুখ।
ইমা

