নগরবাসীকে ট্রাফিক আইন ও শৃঙ্খলা মেনে চলায় অভ্যস্ত হতে হবে : মেয়র

বশির আলমামুন
 চট্টগ্রাম নগরীকে সুন্দর ভাবে সাজাতে হলে জলাবদ্ধতা নিরসন ও যানজটমুক্ত নগরী গড়ে তুলতে হবে। নগরবাসীকে ট্রাফিক আইন, নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলায় অভ্যস্ত হতে হবে। নগরীকে সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা নাগরিকদের নৈতিক দায়িত্ব মনে করতে হবে। শনিবার ( ১৯ জুন) সকালে নগরীর কাজীর দেউরী চত্বরে চট্টগ্রাম মহানগরীর ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, শুধু পাইলট প্রকল্প প্রহণ করে স্মার্ট সিটি বাস্তবায়নের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। সবার আগে প্রয়োজন জলাবদ্ধতা ও যানজট মুক্ত নগরী গড়ে তোলা। এ জন্য নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে এবং নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলায় অভ্যস্ত হতে হবে।
তিন আরও বলেন, স্বপ্ন দেখতে হবে এবং দেখাতে হবে। সামর্থ্যরে বাইরেও সামনে চলার সাহস ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ষষ্ঠ নির্বাচিত পরিষদের পানি ও বিদ্যুৎ স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) ঝুলন কুমার দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিএমপি কমিশনার সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীর।
মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, কেউ কখনো ভাবেনি বিশ্বব্যাংকের সহায়তা ছাড়া নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব হবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী অসম্ভবকে সম্ভব করে জাতির প্রত্যাশা পূরণ করেছেন। একইভাবে কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল সড়ক গড়ে দিচ্ছেন। এর ফলে চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্ব অনেক গুন বেড়ে যাবে এবং চট্টগ্রাম নগরী দক্ষিণে সম্প্রসারিত হবে। তিনি বিদ্যুতের সদ্ব্যব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনার ত্রুটির দোহাই দিয়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তাই সিস্টেম ক্রটি ও অব্যবস্থাপনা দ্রুত সমাধান করতে হবে। এটা জনপ্রত্যাশা। আমি আশা করবো সরকার যে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, তার জন্য প্রযোজনীয় আন্তঃকর্তৃপক্ষীয় সমন্বয় সাধন নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিএমপি কমিশনার সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, স্মার্ট সিটি বাস্তবায়ন একা চসিকের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সমন্বিত প্রয়াস এবং দায়দ্ধতা পালন। তিনি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের উন্নয়ন, লেইন মার্কিং, জেব্রা ক্রসিং, পার্কিং স্পট, ড্রপিং জোন, বাস-কার, সিএনজি ও রিক্সা ইত্যাদির স্টপেজের নকশা প্রণয়নে মাস গ্রুপের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, প্যানেল মেয়র মো. গিয়াস উদ্দিন, কাউন্সিলর অধ্যাপক মো. ইসমাইল, মো. জাবেদ, মো. সলিম উল্লাহ বাচ্চু, শৈবাল দাশ সুমন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল বারী ভূঁইয়া, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) শ্যামল কুমার নাথ, ডিসি ট্রাফিক (বন্দর) শাকিলা সুলতানা, ডিসি ট্রাফিক (পশ্চিম) মো. তারেক আহমেদ, ডিসি ট্রাফিক (উত্তর) আলী হোসেন, মো. নাছির উদ্দিন, মাস গ্রুপের প্রধান গবেষক প্রকৌশলী স্বপন কুমার পালিত, উপদেষ্টা শাহিনুল ইসলাম খান।

আপনার ভালো লাগতে পারে এমন আরো কিছু খবর