গ্রাহক সেবা নিয়ে এগুচ্ছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস

নিজস্ব প্রতিবেদক
অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম প্রবর্তনের পর চট্টগ্রাম বিভাগীয় পার্সপোর্ট অফিসে সেবা প্রত্যাশীদের আগ্রহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভাগীয় ও আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সেবা প্রত্যাশীদের সেবা সহজীকরণ ও উপযুক্ত সেবা নিশ্চিতকল্পে নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক।
এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে নানান পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন পরিচালক মো. আবু সাইদ। তাঁর তৎপরতায় ইতিমধ্যে অনেকটাই দালালমুক্ত হয়েছে মনসুরাবাদের এই কার্যালয়। উচ্ছেদ করা হয়েছে আশপাশের সব অবৈধ স্থাপনা। পাসপোর্ট করতে আসা লোকজন সব সেবা পাচ্ছেন হাতের নাগালেই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০১০ সালে সনাতন পদ্ধতিতে ইস্যুকৃত হাতে লেখা পাসপোর্ট এর পরিবর্তে উন্নত প্রযুক্তির আন্তর্জাতিকমানের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) প্রবর্তন করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ই-পাসপোর্ট প্রবর্তনের নির্দেশনা দেন। ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-পাসপোর্ট এর শুভ উদ্বোধন করেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক মো. আবু সাইদ বলেন, ই-পাসপোর্ট সেবা প্রত্যাশীদের আবেদন ফরম পূরণ সহজীকরণে ফরম পূরণের পদ্ধতি, পূরণকৃত নমুনা ফরম, ই-পাসপোর্ট এর বিভিন্ন নিয়ম-কানুন, সরকারি নির্দেশনা ও কিছু পরামর্শ সন্নিবেশিত করে আমরা ‘ই-পাসপোর্ট তথ্য সহায়িকা’ নামের পুস্তিকা প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছি।
তিনি বলেন, অনলাইন এবং অফলাইন দুইভাবে পাসপোর্টের আবেদন করা যায়। কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে বেশিরভাগ আবেদনকারীই কিভাবে আবেদন ফরম পূরণ করতে হয় তা সহজে বুঝতে পারেন না বিধায় তারা অন্য লোকের শরণাপন্ন হন। এক্ষেত্রে তাদের প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যকে সামনে রেখে ফরম পূরণ সহজীকরণের মাধ্যমে সেবা প্রতাশীদের সেবাপ্রাপ্তি সহজ করার উদ্দেশ্যে এ উপস্থাপনায় ই-পাসপোর্ট আবেদন করার পদ্ধতি, পূরণকৃত নমুনা ফরম প্রদর্শন, ই-পাসপোর্ট ফি, আবেদন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি ও এতদসংক্রান্ত কিছু প্রয়োজনীয় নির্দেশনার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।
এছাড়া সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক অফিস আঙ্গিনার উন্মুক্ত স্থানে সিটিজেন চার্টার বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি আবেদনকারীদের পাসপোর্ট ফরম পূরণের সুবিধার্থে উন্মুক্ত স্থানে পাসপোর্ট আবেদনের পূরণকৃত নমুনা ফরম প্রদর্শন করা হচ্ছে। সুপেয় পানির ব্যবস্থা, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও চলাচলে অক্ষম সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা, শিশুদের জন্য ব্রেস্ট ফিডিং ব্যবস্থা, পৃথক নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, হজ যাত্রীদের বিশেষ সেবা প্রদানের জন্য পৃথক হজ বুথ স্থাপন সহ প্রতি মঙলবার গণশুনানী গ্রহণ এবং যে কোনও সমস্যা ও পরামর্শ গ্রহণের জন্য পরিচালকের সঙ্গে প্রতিদিন সরামরি সাক্ষাতের ব্যবস্থাও রেখেছি। শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
নগরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী সাইমুল কাদের বলেন চিকিৎসার জন্য স্ত্রীকে নিয়ে ভারত যাওযার জন তার পাসপোর্ট দরকার। শুনেছেন, এখন এমআরপি’র উন্নত সংস্করণ ই-পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কার্যালয় ঘুরে অবশেষে সরাসরি গেলেন পরিচালকের দফতরে। কোনও দালালের সাহায্য ছাড়াই নিয়ম মেনে নিজেই করলেন আবেদন।
জানা গেছে, প্রায় ৭.৫০ মিলিয়ন প্রবাসী বাংলাদেশী বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানে নিয়োজিত আছেন। প্রতিদিন দেশ-বিদেশে বিভিন্ন অফিস ও মিশনে প্রায় ১৭-১৮ হাজার পাসপোর্টের আবেদনপত্র জমা হয়। সেবা প্রত্যাশীদের জন্য খোলা মতামত রেজিস্টারে উপকারভোগীরা লিখছেন নিজেদের সন্তুষ্টির কথা। ওমান প্রবাসী মোহাম্মদ সামশুল আলম বলেন, পাসপোর্ট এর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আবেদন করার পর ২৩ মে নতুন পাসপোর্ট হাতে পেয়েছি। এখান সেবা কার্যক্রমে আমি সন্তুষ্ট।
পাসপোর্ট অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, সঠিক তথ্যে আবেদন ফরম পূরণ করে নির্ভুল পাসপোর্ট গ্রহণ করতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা হয়। মিথ্যা তথ্য প্রদান কিংবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে পাসপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা করা পাসপোর্ট আইনে দন্ডণীয় অপরাধ। আবেদন ফরম জমা ও তৈরি, পাসপোর্ট গ্রহণের সময় আবেদনকারী স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে হয়। পাসপোর্ট করার জন্য কোন অবাঞ্চিত লোকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত নয়। এ সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যার জন্য অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাহায্য পাওয়া যাবে।

আপনার ভালো লাগতে পারে এমন আরো কিছু খবর