পাহাড়তলীতে ১৪শত বস্তা আমদানির চাল জব্দ হলেও এখনো অধরা রয়ে গেল ঘটনায় জড়িত মূল হোতারা


নিজস্ব প্রতিবেদক:
করোনায় বিদ্বস্ত দেশে সংকট চলাকালীণ মূহুর্তেও সরকারের খাদ্য মন্দ্রনালয়ের অধিনে আমদানী করাসহ দেশে উৎপাদিত ক্রয় করা চাল ও গম চোরইভাবে পাচার অব্যাহত রয়েছে। খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজসে গুদাম, বন্দর জেটিও সাইলো থেকে  খাদ্য সহায়তাসহ ত্রাণের এসবচাল ও গম দীর্ঘদিন ধরে পাচার হয়ে আসলেও তা কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও খাদ্য-পরিবহন ঠিকাদার, ডিও ব্যবসায়ী, ডিলার ও চাল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে পাচার হয়ে আসছে সরকারি চাল। তাই প্রতিবছরই চাল ও গম পাচারের বড় বড় চালান ধরা পড়লেও অধরা থেকে যাচ্ছে জড়িত রাঘব-বোয়ালরা।
সংশ্লিষ্টদের অভিমত, খাদ্য অধিদপ্তর ও গুদাম কর্মকর্তাদের লাগাম টেনে ধরা না গেলে সরকারি চাল পাচার রোধ করা সম্ভব নয়। দেশে চাল সংকটের মধ্যেও প্রতাপের মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছে সরকারি চাল।
উল্লেখ্য গত ২০ এপ্রিল (মঙ্গলবার) মধ্যরাতে চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী বাজারের মাহী ট্রেডিংয়ের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ১৪শত বস্তা সরকারী চাল জব্দ করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় আব্দুল বাহার মিয়া (৪৪) নামে জড়িত এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় পাচার কাজে নিযেজিত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ আড়তদার আব্দুল বাহার মিয়া সরকারি চালের বস্তা পরিবর্তন করে নিজস্ব সিল সম্বলিত বস্তায় প্যাকেটজাত করে খোলাবাজারে চাল বিক্রির করার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানান।  
এদিকে এ ঘটনায় পাহাড়তলী বাজারের গোডাউন থেকে নগর গোয়েন্দা পুলিশ কতৃক আমদানী করা সরকারী চাউল জব্দের ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্দ্রক অধিদপ্তর। ২২ এপ্রিল সকালে এ কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিৎ করেন চলাচলও সংরক্ষণ খাদ্য, চট্টগ্রাম। কমিটির সদস্যরা হলেন জেলা খাদ্য দপ্তরের সহকারী নিয়ন্ত্রক অনিল চাকমা, সহকারী নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) রূপান্তর চাকমা এবং চলাচল ও সংরক্ষণ বিভাগের উপ নিয়ন্ত্রক সুনীল দত্ত। তারা এ নির্দেশ পাওয়ার পরপরই মাঠ পর্যায়ে তদন্তু শুরু করেছে। 
তদন্ত কমিটির সদস্য সুনীল দত্ত বলেন তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের বরাবরে দাখিল করতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন তদন্ত কালে নোয়াখালীর চরভাটা খাদ্য গুদাম, গোয়েন্দা পুলিশ, বন্দর জেটি খাদ্য অফিস, পাহাড়তলী বাজারের মাহী ট্রেডিংয়ের গোডাউন ও পরিবহণ ঠিকাদার সহ সংশ্লিস্ট জায়গায় তদন্ত কার্যক্রম চালানো হবে। তিনি আরও বলেন সরকারী চাউল সংশ্লিস্ট জায়গায় পৌছার আগে পথে গায়েব হয়ে যাচ্ছে কেন এবং কারা এর পেছনে জড়িত হোতাদের চিন্নত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে গতকাল উপ নিয়ন্ত্রক সুনীল দত্ত এ প্রতিবেদককে বলেন শনিবার নোয়াখালীর চরভাটা খাদ্য গুদাম সহ সংশ্লিষ্ট জায়গায় তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ সোমবার গোয়েন্দা পুলিশের অগ্রগতি সম্পর্কে জেনে একটি চুড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করা হবে। তবে কারা এ সব কাজে জড়িত তা তিনি জানায়নি।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের এসি (বন্দর) মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত বলেন, গোপন সংবাদ পেয়ে মাহী ট্রেডিংয়ের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ১৪শ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন ২৬০ বস্তা চালের একটি ট্রাক চট্টগ্রাম বন্দর জেটি খাদ্য অফিস থেকে চালান নিয়ে নোয়াখালীর চরভাটা এলএসডি সরকারী খাদ্য গুদামে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নোয়াখালীতে না গিয়ে অবৈধ পন্থায় পাহাড়তলী বাজারের আব্দুল বাহার মিয়ার মালিকানাধীন মাহী ট্রেডিংয়ের গোডাউনে মওজুদ করা হয়। এসময় ট্রাকসহ ২৬০ বস্তা চাল জব্দ করতে গিয়ে ওই গুদামে তল্লাশি চালিয়ে আরও ১১৪০ বস্তা সরকারী চাল গোডাউনে পাওযা যায়। জব্দ করা ১৪শত বস্তায় ৭০ হাজার কেজি চাল রয়েছে। চালের বস্তায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিল রয়েছে।
এসি (বন্দর) মো: ইয়ছির আরাফাত বলেন সরকারী চাল পাচারের অভিযোগে আব্দুল বাহার মিয়াকে আসামী করে খাদ্য পাচার আইনে নগরীর ডবল মুরিং  থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত সাপেক্ষে মুল হোতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার (বন্দর)ফারুল উল হক জানান, তদন্তে যেসব ব্যবসায়ীর নাম আসবে তাদের মামলায় আসামি করা হবে। ওই ব্যবসায়ী সরকারি চাল ক্রয় সংক্রান্ত সিন্ডিকেটের সদস্য কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এই ধরনের কাজগুলো কেউ একা করে না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, তিনি সরকারি চাল ক্রয় সিন্ডিকেটের সদস্য।  
চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু নঈম মো সফিউল আলম বলেন এ ব্যাপারে আমরা তদন্ত শুর করেছি। এ চাউলের ক্যারিং টিকাদার কে ছিল ? সরকারী চাউল কোথায় যাচ্ছিল আমরা খোজ খবর নিচ্ছি। তবে বিষয়টি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। যদি আমাদের খাদ্য বিভাগের কেউ জড়িত থাকে তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: জহিরুল ইসলাম খান বলেন পাহাড়তলীর একটি গোডাউন থেকে সরকারী চাল জব্দের বিষয়টি অবগত হয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে দেখার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর খাদ্য(সাইলো) অফিসকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 
জানা গেছে, এই চালের বাহক হলেন সবুজ অ্যান্ড ব্রাদার্স এর মালিক আক্রাম হোসেন সবুজ। চাল প্রেরণের সাক্ষর রয়েছে চট্টগ্রাম জেটি খাদ্য অফিসের সহকারী নিয়ন্ত্রক এস.এম নূরউদ্দিনের। আব্দুল বাহার মিয়া বাহক সবুজ এ- ব্রাদার্সের মালিক আক্রাম হোসেন সবুজের কাছ থেকে ২৬০ বস্তার চাল প্রতিকেজি ৪০ টাকা করে কিনেছেন। বাকি চাল বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছে। খোকন নামে এক ব্যক্তি বন্দর থেকে ২৬০ বস্তার চালের চালান বের করে দেন বলে আব্দুল বাহার মিয়া জানান।  

আপনার ভালো লাগতে পারে এমন আরো কিছু খবর