চট্টগ্রামে স্কুলছাত্র রাসেল হত্যা রহস্য উম্মোচন

বশির আলমামুন

অবশেষে সিএমপির বায়েজিদ থানা পুলিশ উদঘাটন করেছে চট্টগ্রাম নগরে স্কুল ছাত্র রাসেল হত্যার রহস্য। গ্রেফতার করেছে খুনের সঙ্গে জড়িত হাসানুল করিম প্রকাশ হাসানকে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে হাসান।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (বায়েজিদ জোন) পরিত্রান তালুকদার বলেন, স্কুলছাত্র রাসেল হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। হত্যার সঙ্গে জড়িত হাসানুল করিম প্রকাশ হাসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হাসান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রনব চৌধুরী বলেন, স্কুলছাত্র মো. রাসেল (১৩) ইলেকট্রিক মিস্ত্রী মো. হাসানুল করিম প্রকাশ হাসান (১৬) দুইজনই পূর্ব পরিচিতি। একই সঙ্গে চলাফেরা করে এলাকায়। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাদের মাঝে ঝগড়া হয়। প্রকাশ্যে সেই ঝগড়ার রেশ না থাকলেও মনের ভেতর ক্ষোভ পুষে রাখে হাসানুল করিম প্রকাশ হাসান।

ক্ষোভ থেকে সিদ্ধান্ত নেয় রাসেলকে খুন করার। খুন করার আগে যেমন রাসেলকে বুঝতে দেয়নি ঠিক তেমনি খুনের পর পুলিশকে বুঝতে দেয়নি। হত্যার পর তিন দিন রাসেলের মরদেহ খুঁজে পায়নি পরিবার। যখন খুঁজে পায় তখন সবার সঙ্গে হাসানও ছিল। কিন্তু বুঝার কোনো উপায় ছিল না হাসানই রাসেলের খুনী।

ওসি প্রনব চৌধুরী বলেন, ৩১ জুলাই বিকেলে হাসান রাসেলকে নিয়ে নিউ মার্কেট এলাকায় গিয়ে সেখান থেকে একটি স্টিলের ছুরি কিনে। সন্ধ্যা ৭টায় হাসেম করপোরেশনের পাহাড়ে নিয়ে যায় ৪ হাজার টাকা লুকিয়ে রেখেছে এমনটা জানিয়ে। সেখানে রাসেলকে একটি প্যাকেট দেখিয়ে তুলতে বলে হাসান। রাসেল প্যাকেটটি তুলতে গেলে হাসান তাকে ছুরিকাঘাত করে। সেখানে তাকে ফেলে রেখে চলে আসে। হত্যার পর হাসান পাহাড় থেকে চলে আসার পথে রাহাত নামে একজনকে ঘটনার বিষয়ে বলে।

৩ আগস্ট খুলশী থানাধীন জালালাবাদ এলাকার হাসেম কোম্পানির পাহাড় থেকে স্কুলছাত্র রাসেলের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে রাসেলের বাবা হুমায়ুন কবির বাদি হয়ে খুলশী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আপনার ভালো লাগতে পারে এমন আরো কিছু খবর