ভূমিকম্প বিধ্বস্থ আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তার অংশ হিসাবে ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে সরকার। এই ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে আছে শুকনো খাবার (বিস্কুট, নুডলস, গুঁড়ো দুধ), কম্বল, তাঁবু্ও ওষুদ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সশস্ত্র বাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় এই ত্রাণ সামগ্রী প্রেরণ করা হচ্ছে। বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমান সি-১৩০জে যোগে এসব ত্রাণ সামগ্রী আফগানিস্তানে পৌঁছানো হবে ও আফগানিস্তান সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাধারণ আফগানদের জন্য প্রেরিত ত্রাণসামগ্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), প্রাণ-আর এফ এল গ্রুপ, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড থেকে অনুদান হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছে।
আফগানিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের নিরাপদে গমনাগমনের বিষয়ে তৎকালীন আফগান সরকার ও সাধারণ জনগণ বিশেষ সহায়তা প্রদান করেছিল। সাম্প্রতিককালে আফগানিস্তানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবেলায় আফগানিস্তানের সাধারণ জনগণকে সহায়তার জন্য ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বাজেট থেকে এক কোটি টাকা জাতিসংঘের একটি অঙ্গসংস্থার তহবিলে প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে প্রলয়ঙ্করী বন্যা এবং নেপালে বিধ্বংসী ভূমিকম্পের অব্যবহিত পরে বাংলাদেশ সরকারের জরুরি ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা দেশ দুইটির জনগণ ও সরকার কর্তৃক ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। কোভিড-১৯ অতিমারি কালেও ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভারতে জরুরি ওষুধ প্রেরণ করেছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি শ্রীলংকায় অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে জরুরি ওষুধসামগ্রী অনুদান হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। এর ফলে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী রাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভূমিকা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
ইমা

