চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে পাসের হার। ২০২২ সালে যেখানে প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮০ জনের বেশি পাস করেছিলেন, সেখানে ২০২৬ সালে পাস করেছেন প্রায় ৫২ জন।
পাঁচ বছরের ব্যবধানে পাসের হার ৮০ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশে। একই সময়ে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৭৭ শতাংশ।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এক বিষয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া, শতভাগ পাস করা কলেজের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হতাশাজনক ফলাফল। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার পাঁচ বছরের তুলনামূলক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থ। গতবার পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭। জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬ হাজার ৯৭ জন।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণার সময় এ তথ্য জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আব্দুল মান্নান, সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন প্রমুখ।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেন। সব মিলিয়ে এবার পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগরীতে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ। আর নগরী বাদে জেলায় পাসের হার ৪৫ দশমিক ৫৯। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে রাঙামাটিতে পাসের হার ৩৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। খাগড়াছড়িতে ২৯ দশমিক ৮৫ ও বান্দরবানে ৪১ দশমিক ৪২। অন্যদিকে কক্সবাজার জেলায় পাসের হার ৪৩ দশমিক ৩৪।
বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৪২। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৪ দশমিক ১৪ ও মানবিকে ৩৮ দশমিক ৩১।

