সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলার ৫ হাজার ৬৩০টি পরিবারকে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী দেবে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। বান্দরবান সদর ও রোয়াংছড়ি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে এসব সহায়তা দেয়া হবে।
আজ বুধবার বেলা ১১টায় বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত প্রকল্প অবহিতকরণ সভায় এ তথ্য জানান ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের বান্দরবান জেলা কার্যালয়ের সিনিয়র ম্যানেজার আশীষ কুমার হালদার।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় বান্দরবানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং তাদের খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন ও গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন (গ্রাউস) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। হংকং স্পেশাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিজিয়ন সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান সদর ও রোয়াংছড়ি উপজেলার মোট ৫ হাজার ৬৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান পৌরসভার ১ হাজার ৫৩০টি, বান্দরবান সদর ইউনিয়নের ৭০০টি, কুহালং ইউনিয়নের ১ হাজার, জামছড়ি ইউনিয়নের ৫৫০টি, রাজবিলা ইউনিয়নের ২০০টি, টংকাবতী ইউনিয়নের ২৫০টি, সুয়ালক ইউনিয়নের ৩০০টি এবং রোয়াংছড়ি উপজেলার ১ হাজার পরিবারকে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হবে।
এসব সহায়তার মধ্যে থাকবে চাল, মসুর ডাল, তেল, চিড়া, লবণ ও চিনি। পাশাপাশি খাবার স্যালাইন, সাবান, পানির পাত্রসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম হাসান, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লুসাই মং, সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফুল আরেফিন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের বান্দরবান জেলা কার্যালয়ের সিনিয়র ম্যানেজার আশীষ কুমার হালদার, গ্রাউসের উপনির্বাহী পরিচালক চিন্ময় ম্রো, প্রোগ্রাম ম্যানেজার টুলু মারমা ও কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার সোনিয়া আফরোজ।
বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, পৌরসভার বিভিন্ন শাখার কর্মচারী এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, গ্রাউস ও হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা এ সভায় অংশ নেন।

