শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়, বরং নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে ওঠতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। অর্জিত জ্ঞান যদি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজে না আসে, তাহলে সেই শিক্ষার প্রকৃত সার্থকতা থাকে না।
গত রোববার নগরীর রহমতগঞ্জে কুসুম কুমারী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা–২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, সময়ানুবর্তিতা ও অধ্যবসায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে মেয়র বলেন, জীবনে সফল হতে হলে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে, শিক্ষকদের পাঠদান মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করতে হবে এবং মা–বাবার উপদেশ মেনে চলতে হবে। ঝড়–বৃষ্টি ও প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে যারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে, তাদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, শৃঙ্খলা ও নিয়মিত চর্চাই ভবিষ্যৎ জীবনে সফলতার ভিত্তি তৈরি করে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি উল্লেখ করে মেয়র বলেন, বিদ্যালয়ে আসা–যাওয়ার পথে কেউ ইভটিজিং, হয়রানি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষক–শিক্ষিকাদের জানাতে হবে। প্রয়োজনে তাঁকেও বিষয়টি অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেন মেয়র।
খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সন্ত্রাস, মাদক ও কিশোর অপরাধ থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে হলে তাদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। খেলাধুলা শুধু শারীরিক সুস্থতাই নিশ্চিত করে না, মানসিক বিকাশ, শৃঙ্খলা ও দলগত মনোভাব তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুস্থ মন ছাড়া পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মেয়র বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ১১টি মাঠের উন্নয়ন ও প্রস্তুতকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাঠ উন্নয়নের পাশাপাশি ছোট পরিসরে ফুটবল মাঠ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এসব মাঠে ছেলে ও মেয়েদের খেলাধুলার সুযোগ থাকবে। শিক্ষার্থীদের সুস্থ বিকাশ এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চসিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সিনিয়র সহকারী সচিব নাজমা বিনতে আমিন, সভায় গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, বিশেষ অতিথি প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, মনজুর রহমান চৌধুরী, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লোকমান উদ্দীন লাহেড়ী, সাবেক প্রধান শিক্ষক চম্পা মজুমদার, লিলি বড়ুয়া, নাজনীন আকতার, কোহিনূর জাহান,কুমকুম ভট্টাচার্য, লক্ষ্মী রাণী দেবী, মান্না বড়ুয়া, মুহম্মদ ইউনুস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এএনএম ছোহাইল ও রুমিলা বড়ুয়া।

