চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, শহরকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত রাখতে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। এই শহর শুধু মেয়রের একার নয়, এটি আমাদের সবার। শহরের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকেই নাগরিকদের অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে হবে।
আজ নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট হলে চট্টগ্রাম সিটিকে গ্রিন, ক্লিন, হেলদি ও সেফ সিটি গঠনের লক্ষ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উদ্বুদ্ধকরণ কমিটির কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, বিশ্বের উন্নত শহরগুলোতে আইন অমান্য করলে জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তির বিধান কার্যকর করা হয়। এর উদ্দেশ্য কাউকে অপমান করা নয়, বরং নিয়ম মানতে বাধ্য করা এবং ভবিষ্যতে একই অপরাধ করা থেকে বিরত রাখা। অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কেউ নিয়ম ভাঙবে, আর তাকে শাস্তি দেওয়া হলে সেটিরও সমালোচনা করা হবে- এভাবে চলতে পারে না। অপরাধীকে অপরাধ করতে দিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিকেই দোষারোপ করলে শহরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। চট্টগ্রামকেও পরিকল্পিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ নগরীতে পরিণত করতে হলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মেয়র বলেন, তোমরা স্কুলে চিপস খেয়ে যত্রতত্র প্যাকেট ফেলবে না। চিপসের প্যাকেট ব্যাগে রেখে পরে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন তোমাদের মধ্যে এ ধরনের সচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। আমি বিশ্বাস করি, তোমাদের হাত ধরেই আমরা চট্টগ্রামকে একটি জলাবদ্ধতামুক্ত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জলাবদ্ধতা নিরসনে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, থিয়েটার ইনস্টিটিউটের পরিচালক অভীক ওসমান ও আব্দুল হক।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

