অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে অবশ্যই কম্পিউটার সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে। শুধু প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই চলবে না; তাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান, ডিজিটাল পদ্ধতিতে শেখার সক্ষমতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। এসব দক্ষতা ছাড়া ভবিষ্যৎ বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন হবে।’
আজ দুপুরে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ তজল্লী আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক উপ-পরিচালক মুহাম্মদ ফরিদুল আলম হোসাইনী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যের পেছনে তাদের পরিবার ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী একক প্রচেষ্টায় সব অর্জন করতে পারে না; এজন্য পরিবারের সহযোগিতা প্রয়োজন। যে পরিবারে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নেই, সেখানে শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করা কঠিন। যথাযথ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীরা আরো ভালো করতে পারে। এক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রসঙ্গত, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই স্কুলেরই সাবেক শিক্ষার্থী।
তিনি স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবেই এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষাক্ষেত্রে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে আসছে। স্কুলে প্রবেশের পর নিজের শিক্ষাজীবনের অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যায়। স্কুলের সমাবেশ, ক্রিকেট খেলা ও গ্রন্থাগারকে ঘিরে শৈশবের স্মৃতিগুলো এখনো হৃদয়ে অমলিন। মানুষ জীবনের অনেক ঘটনা ভুলে গেলেও স্কুলজীবনের স্মৃতি সহজে ভোলে না। আমার সেই শিক্ষকদের নাম এখনো মনে আছে। স্কুলের দপ্তরিসহ যারা বিভিন্নভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের স্মৃতিও মনে ছবির মতো অঙ্কিত রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘স্কুলটির পরিচালনা, উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের সর্বোত্তম শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি আমার কাছে সবসময় গুরুত্বপূর্ণ।’
কলেজিয়েট স্কুলের গ্রন্থাগার আগের মতো কার্যকর নেই জানতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রন্থাগার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন ও পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে গ্রন্থাগারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এখানে কম্পিউটার ল্যাব নেই, সেটা আমাকে বিস্মিত করেছে। এই সময়ে কম্পিউটার ল্যাব ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলতেই পারে না। এখানে কম্পিউটার ল্যাব করে দেওয়া হবে।’

