চট্টগ্রাম নগরীর পশ্চিম খুলশী-জালালাবাদ এলাকায় ‘অনলাইন স্ক্যামিংয়ের’ অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শিশু বাদে গ্রেপ্তার হওয়া ৬৩ বিদেশির প্রত্যেকের জন্য এ রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
একই সঙ্গে মামলার তদন্তকারী সংস্থা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে (সিটিইউ) ২০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি-প্রসিকিউশন, ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানের আদালত ৬৩ বিদেশি নাগরিকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। শিশু থাকায় তাকে রিমান্ডের বাইরে রাখা হয়েছে।
এদিকে, মামলাটির তদন্তভার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সংস্থাকে ২০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ পাহারায় ৬৩ বিদেশি নাগরিককে আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড আবেদনের শুনানির সময় তারা এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।
গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) তাদের বিরুদ্ধে করা মামলায় রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। এর আগে অনলাইন স্ক্যামিংয়ের অভিযোগে পশ্চিম খুলশী-জালালাবাদ এলাকা থেকে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ মহসিনকেও একই মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর আবেদন করা হয় এবং তার সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। মহসিন গত ৫ সেপ্টেম্বর নগরীর একটি কুরিয়ার থেকে ১১৮ গ্রাম কোকেন উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য, ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের থাকার জন্য তিনি একটি আটতলা ভবন ভাড়া করে দিয়েছিলেন।
খুলশী থানার পুলিশ জানায়, কয়েকদিন আগে মহসিন কুরিয়ারের মাধ্যমে ১১৮ গ্রাম কোকেন ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে পাঠান। পরে কোকেনের চালানটি ফেরত আসে। ওই ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ ৬৩ বিদেশি নাগরিকের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

