কোরিয়ান অর্থায়নে বাংলাদেশের শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিকে স্মার্ট ও গ্রিন হিসেবে গড়ে তুলতে দক্ষ জনবল তৈরিতে সহায়তা করতে চায় কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো–অপারেশন এজেন্সি (কোইকা)।
সংস্থাটির একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম চেম্বার ও শিপ ব্রেকিং সেক্টরের নেতৃবৃন্দের সাথে গতকাল রোববার বিকেলে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সেমিনার হলে মতবিনিময়কালে এ আগ্রহের কথা জানানো হয়। চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের সভাপতিত্বে কোইকা বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর হিউনউ ইয়াং, চেম্বার সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, চেম্বার পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন ও উপদেষ্টা জহিরুল ইসলাম (রিংকু), মাস্টার স্টিল অ্যান্ড অঙিজেন লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, এইচআর শিপ ম্যানেজমেন্টের সিইও মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বক্তব্য দেন। বাংলাদেশের শিপ রিসাইক্লিং শিল্পে কর্মদক্ষতা উন্নয়নে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ওপর তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন কোইকা বিশেষজ্ঞ চুং ইয়ুপ কিম।
চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাবে পরিণত হচ্ছে। কঙবাজারের মাতারবাড়ীতে সরকার গ্রিন শিপ বিল্ডিং হাব গড়ে তুলতে চায়। এছাড়া চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলে রয়েছে এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রি। তাই এই সেক্টরের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কোরিয়ার নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানায় চেম্বার। প্রযুক্তিক্ষেত্রে কোরিয়া অনেক অগ্রগামী। বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরের ভিত রচিত হয়েছিল কোরিয়ার কারিগরি ও প্রশিক্ষণের সহায়তায়। আশা করি শিপ ব্রেকিং সেক্টরও কোইকার নতুন উদ্যোগ এ সেক্টরকে টেকসই এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
কোইকা ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর হিউনউ ইয়াং বলেন, বাংলাদেশের শিপ রিসাইক্লিং খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা করতে আগ্রহী কোরিয়া। বিশেষ করে উন্নত ওয়েল্ডিং প্রযুক্তি, আধুনিক কর্মপদ্ধতি এবং কারিগরি অভিজ্ঞান উন্নয়নের মাধ্যমে এ খাতের উৎপাদনশীলতা ও মূল্য সংযোজন বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করতে চায় কোরিয়া সরকার। এই লক্ষ্যে কোরিয়ান এবং বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, কোরিয়ার শিপ রিসাইক্লিং কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের ইয়ার্ডগুলোতে শিপ রিসাইক্লিং করতে চায়। তাই তারা বাংলাদেশের শিপ রিসাইক্লিংয়ের ওপর একটি সমীক্ষা চালিয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে বাংলাদেশের শিপ রিসাইক্লিং সেক্টরে দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদা রয়েছে। চাহিদার মাত্র ১–২ শতাংশের দক্ষতা রয়েছে। বাকি জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে শিপ ব্রেকিং, শিপ বিল্ডিং এবং শিপ মেইনটেন্যান্স সেক্টরে জন্য ২০২৭–৩১ সাল পর্যন্ত ১৫ মিলিয়ন ডলারের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ও নলেজ শেয়ারিং প্রকল্প হাতে নিয়েছে কোইকা। প্রকল্পটির মাধ্যমে বাংলাদেশ কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের অবকাঠামো, কারিকুলাম, টিচার্স ট্রেনিং ও শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
চেম্বার সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে শিপ ব্রেকিং সেক্টর। এই খাতের বার্ষিক টার্নওভার ২৫–৩০ হাজার কোটি টাকা। শিপইয়ার্ড মালিকরা এই খাতকে টেকসই করতে আধুনিক প্রযুক্তিসহ ইয়ার্ডগুলো গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তর করছে। এছাড়া কোইকার দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির এ উদ্যোগ এই সেক্টরকে আরো গতিশীল করে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
বক্তারা বলেন, শিপব্রেকিং সেক্টরের শ্রমিক দক্ষতা এবং দক্ষ জনশক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি শিপবিল্ডিং এবং শিপ মেইনটেন্যান্স সেক্টরও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা প্রয়োজন। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানিরও আহ্বান জানান তারা।
চেম্বার পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী পলাশ কুমার বড়ুয়া, বারাকা শিপ ব্রেকিংয়ের ফুয়াদ ইবনে আলম, কোইকা বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ইউনসিওং আন, প্রোগ্রাম অফিসার ফেরদৌসি শারমিন, কোইকা বিশেষজ্ঞ জিনকিউ লি, জিনকিউ লি, জং ইয়ন পার্ক, কো হো লি, বো ইয়ং লি–সহ চেম্বার এবং বিএসবিআরএর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

