মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

দক্ষিণ চট্টগ্রামে নতুন গতি আনবে ডুয়েলগেজ রেললাইন

অনলাইন ডেস্ক
- Advertisement -
Single page 1st Paragraph

চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশের উত্তর, পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইন ডুয়েলগেজে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

৫৯ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার দীর্ঘ মিটারগেজ রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তর হলে একই লাইনে মিটারগেজ ও ব্রডগেজ-উভয় ধরনের ট্রেন চলাচল করতে পারবে যা দক্ষিণ চট্টগ্রামে রেল চলাচলে নতুন গতি আনবে।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক এস এম ইসমাইল খান বলেন, এতে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দেশের উত্তর, পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরও সহজ ও কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রামে শিল্প, বাণিজ্য, কৃষি ও পর্যটনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। কমবে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয়। পাশাপাশি সড়কপথের ওপরও চাপ কমবে।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সড়কে যানজট কমবে এবং শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ, জলাবদ্ধতা, শব্দদূষণ এবং স্থানীয় জনগণের চলাচলে সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তারা এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডুয়েলগেজে রূপান্তরের পাশাপাশি বিদ্যমান সেতু, কালভার্ট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, স্টেশন, প্ল্যাটফর্ম, লুপ লাইন, লেভেল ক্রসিং, সিগন্যালিং ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নয়ন করা হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা অবকাঠামো শক্তিশালী করা হবে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মঞ্জুরুল কবিরিয়া বলেন, নির্মাণকাজের সময় পরিবেশগত প্রভাব কমাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে। ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের আশপাশে গ্রহণযোগ্য মাত্রার শব্দ নিশ্চিত করা হবে। অপ্রয়োজনে উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে না। প্রয়োজনে কোনো গাছ কাটতে হলে প্রতিটি গাছের বিপরীতে অন্তত তিনটি করে নতুন গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বন উজাড়, বায়ু ও শব্দদূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত পরিবেশগত পর্যবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, প্রচলিত আইন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। জমি, স্থাপনা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতিকেও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি গ্রিভ্যান্স রিড্রেসাল ম্যানেজমেন্ট কমিটি (জিআরএমসি) গঠন করা হবে। এতে বাংলাদেশ রেলওয়ে, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় এনজিওর প্রতিনিধিরা থাকবেন।

চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, বড় অবকাঠামো প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়ন অপরিহার্য হলেও এর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় পরিবেশের ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ডুয়েলগেজ রেললাইন চালু হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়বে।

তিনি বলেন, ডুয়েলগেজ রেল যোগাযোগ চালু হলে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটবে। চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরশীল শিল্প ও কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং লজিস্টিক ব্যয় কমে আসবে। এ ছাড়া সড়কে যানজট কমার ফলে পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্প পরিচালক মো. আসাদুল হক বলেন, চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইন ডুয়েলগেজে রূপান্তরের মাধ্যমে দেশের রেল যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়বে। এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় উভয়ই কমবে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের যোগাযোগ আরও কার্যকর হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি দক্ষিণ চট্টগ্রামে শিল্প, কৃষি, পর্যটন ও বাণিজ্য খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। তবে উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় জনগণের মতামত ও উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হবে।

এই বিভাগের সব খবর

সাসাকাওয়ার আমন্ত্রণে নৈশভোজে অংশগ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া’র আমন্ত্রণে নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেছেন। জাপানের টোকিওতে মেইজি কিনেনকানের হানাগাসুমি রেস্তোরাঁয় তারা...

মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে সিএমপিতে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)- এর উদ্যোগে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) সিএমপির লালদীঘিস্থ সদর দপ্তরের কনফারেন্স কক্ষে...

প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পরিদর্শনের সুযোগ

প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে এবার বর্জ্য সংগ্রহ, ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে...

সর্বশেষ

সাসাকাওয়ার আমন্ত্রণে নৈশভোজে অংশগ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস...

মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে সিএমপিতে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)-...

প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পরিদর্শনের সুযোগ

প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পরিদর্শনের সুযোগ...

কানাডার সঙ্গে ‘শিগগিরই’ বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হবে : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কানাডার সঙ্গে একটি বাণিজ্য...

ভারতের টানা ষষ্ঠ সিরিজ জয়ের মিশনে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ নিউজিল্যান্ডের

প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি জিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে...

যৌতুকের বলি ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ নিহাত

প্রেমের সম্পর্ক পেরিয়ে পারিবারিকভাবে ঘর বেঁধেছিলেন তানিয়া কামাল নিহাত...