বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার মতো সামাজিক ব্যাধিকে কেবল বিচ্ছিন্ন সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দারিদ্র্য, অসচেতনতা, সামাজিক অনুশাসনের দুর্বলতা, পারিবারিক সংকট এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার নানা ঘাটতি।
তাই প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, গণমাধ্যম, ধর্মীয় নেতা ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগেই পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে বাল্যবিবাহ মুক্ত, শিশুবান্ধব জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ামুক্ত কক্সবাজার জেলা গঠনে অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের চাইল্ড সেফটি নেট প্রজেক্ট এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের চাইল্ড সেফটি নেট প্রজেক্ট ম্যানেজার সাগর ডি কস্তার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায়
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। বাল্যবিবাহ একটি শিশুর শৈশব ও শিক্ষাজীবনকে সংকুচিত করে শিশুশ্রম তার স্বাভাবিক বিকাশের পথ রুদ্ধ করে এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া তাকে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়। এসব সমস্যার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন জরুরি।
জেলা প্রশাসক বলেন, কক্সবাজারকে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ামুক্ত করতে হলে শুধু অভিযান কিংবা আইন প্রয়োগের ওপর নির্ভর করলে হবে না। পরিবার থেকে শুরু করে বিদ্যালয়, পাড়াÑমহল্লা, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে একটি কার্যকর সামাজিক নজরদারি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
কোনো শিশু বিদ্যালয় থেকে অনুপস্থিত হলে তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে, কোনো কিশোরীর বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা আগেই শনাক্ত করতে হবে এবং কোনো শিশুকে শ্রমে নিয়োজিত করার পেছনে থাকা অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
সভায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র ম্যানেজার রোনাল্ড প্রবীর চিসিক বলেন, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শুধু প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রম যথেষ্ট নয় প্রয়োজন স্থানীয় পর্যায়ে স্থায়ী ও কার্যকর সামাজিক ব্যবস্থা। শিশুদের ঝুঁকি শনাক্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ন্যাশনাল অ্যাডভোকেসি কোÑঅর্ডিনেটর মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, মোবিলাইজেশন অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেংদেনিং অফিসার পার্থ প্রতীম বাগচী ছাড়াও বিভিন্ন সরকারিÑবেসরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী ও সুধীজন তাদের মতামত তুলে ধরেন।

