দীর্ঘ ৭ বছর বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের এমআরআই (ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং) মেশিনটি আবারও চালু হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে মেশিনটি সচল হওয়ায় এখন থেকে তুলনামূলক কম খরচে সেবা পাবেন রোগীরা।
বেসরকারি ল্যাবে একটি এমআরআই পরীক্ষায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, একই পরীক্ষা এখন জেনারেল হাসপাতালে করা যাবে মাত্র ৩ হাজার টাকায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন ধরনের আঘাত কিংবা জটিল রোগের ক্ষেত্রে রোগীর এমআরআই করার প্রয়োজন পড়ে। সরকারি হাসপাতালটিতে কোটি টাকায় কেনা এই মেশিনটি দীর্ঘদিন অচল থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়েই বেসরকারি ল্যাবে এই পরীক্ষা করাতে হতো। ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেক গরিব রোগী এমআরআই করাতে সংকটে পড়ে যেতেন। সরকারি হাসপাতালে এই সেবাটি চালু হওয়ার খবরে তাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট, সহযোগী অধ্যাপক ডা. একরাম হোসেন হাসপাতালটিতে তত্ত্বাবধায়ক পদে যোগদানের পর মেশিনটি চালুর উদ্যোগ নেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কয়েক দফা পত্র প্রেরণ করেন।
পরে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ানও বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলেন। তাদের উদ্যোগে মন্ত্রণালয় মেশিনটি সচল করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান বেশ কয়েকদিন কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে বুধবার (১৯ আগস্ট) মেশিনটি সচল করতে সক্ষম হয়।
রেডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও এমআরআই তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিনাক্ষী রায় এটির পরীক্ষামূলক ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করেছেন।
প্রসঙ্গত, হাসপাতালটি গত জুন মাসে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবাও চালু করা হয়েছে। এখন সেখানে নিয়মিত রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের দিকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে এমআরআই মেশিনটি কেনা হয়। কয়েক বছর সেবা দেওয়ার পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মেশিনটি অচল হয়ে পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সেটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের এমআরআই করার দরকার পড়লে তাদের বাইরে গিয়ে করতে হতো। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একরাম হোসেন মেশিনটি চালু করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একরাম হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন এমআরআই মেশিনটি অচল থাকায় গরিব রোগীরা নিরুপায় ছিলেন, অনেকের এত টাকা খরচ করে বাইরে এমআরআই করার মতো সামর্থ্যও নেই। এটা নিজের কাছেও খুব খারাপ লাগতো। বর্তমান সরকার এসব বিষয়ে খুবই আন্তরিক। আমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি লেখার পরই এটি সচল করা উদ্যোগ নেওয়া হয়। আল্লাহর রহমতে মেশিনটি চালু হয়েছে। এখন রোগীরা কম খরচে এই সেবা পাবেনÑএটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়।’
এমআরআই’র দায়িত্বে থাকা সহকারী অধ্যাপক (রেডিওলজি) ডা. মিনাক্ষী রায় বলেন, ‘মেশিনটি চালু হওয়ায় রোগীদের জন্য বড় একটি সেবার দরজা আবার খুলেছে। বিশেষ করে ব্রেইন, সারভাইকাল স্পাইন ও শোল্ডার জয়েন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলো এখন হাসপাতাল থেকেই করা সম্ভব হবে। রোগীদের যেন সঠিকভাবে এবং দ্রুত সেবা দেওয়া যায়, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’
বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘জেনারেল হাসপাতালের এমআরআই মেশিনটি কয়েক বছর আগে একবার চালু করা হয়েছিল, কিছুদিন চলার পর সেটি আবারও কারিগরি ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়ে। জেনারেল হাসপাতালে বেশিরভাগই গরিব রোগী আসেন, এখন সেবাটি চালু হওয়ায় তাদের উপকার হবে। একই সাথে চট্টগ্রামে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর যে চাপ, এর কিছুটা হলেও কমবে।’
সরকারি হাসপাতালে যন্ত্রপাতিগুলো বারবার নষ্ট হয়ে যায় কেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ সব সময় বেশি, সে কারণে লোড নিতে পারে না। আর মেশিন নষ্ট হলেই আমরা ইঞ্জিনিয়ার বা টেকনিশিয়ান ডেকে মেরামত করাতে পারি না, সেটার জন্য সরকারি নীতিমালা আছে। আমাদের ‘নিমোকে’ (ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার) জানাতে হয়, তারা নিয়মানুযায়ী আসে, এসব ব্যাপার থাকায় তা অনেকটা সময় সাপেক্ষ।’

