দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেছেন, চট্টগ্রাম একাডেমি গত ২৫ বছর ধরে এই শহরে নিরলস শ্রম ও কর্মের মাধ্যমে সুধীজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছে। আজ তার পরিচিতি কেবল চট্টগ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, দেশে বিদেশে সাহিত্য-সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সমাদৃত হচ্ছে। তিনি বরেন, আমরা ৬৬ বছর ধরে আজাদীর মাধ্যমে চট্টগ্রামের উন্নয়নের কথা বলছি। চট্টগ্রামের জনসাধারণের মুখপত্র হিসেবে এখানকার সমস্যা তুলে ধরছি। পাশাপাশি এখানকার সম্ভাবনা ও উত্তরণের কথা অকপটে নানা প্রতিবেদনের মাধ্যমে বলার চেষ্টা করছি। এখানকার সাহিত্য-সংস্কৃতিকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা অবিচল। চট্টগ্রাম একাডেমিও তাদের কাজ দিয়ে এখানকার লেখকদের পরিচর্যা করে চলেছে। বিভিন্ন পুরস্কার দিয়ে কৃতীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। গুণীদের সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। বইমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠায় অনবরত চেষ্টা চালাচ্ছে। এম এ মালেক মহাত্মা গান্ধীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম সর্বাগ্রে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ- সমস্ত সংগ্রামে বিপ্লবে চট্টগ্রাম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। একুশের প্রথম কবিতা রচিত হয়েছে এই চট্টগ্রাম থেকে। ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’- মাহবুবউল আলম চৌধুরীর এই কবিতা প্রকাশ করার গৌরব আমরা বহন করছি। এই কবিতা প্রকাশের দায়ে সীলগালা করে দেয়া হয়েছিল আমাদের প্রেসকে। প্রেসের ম্যানেজারকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম একাডেমিও তাদের নতুন নতুন সৃজন প্রক্রিয়ায় তারা আমাদের প্রীত করছে, চট্টগ্রামকে সাহিত্য-সংস্কৃতির জায়গায় এগিয়ে নিচ্ছে। তিনি গতকাল বিকেলে থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে চট্টগ্রাম একাডেমির ২৫ বছর পূর্তি উৎসবে উদ্বোধকের বক্তব্য রাখছিলেন। ড. আনোয়ারা আলমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক রাশেদ রউফ,সরকারি চারুকলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর রীতা দত্ত, থিয়েটার ইনস্টিটিউটের পরিচালক অভীক ওসমান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবদুল মান্নান রানা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মহাপিরচালক জাহাঙ্গীর মিঞা। স্বাগত বক্তব্য দেন রজতজয়ন্তী উৎসবের সদস্য সচিব শারুদ নিজাম। বাচিকশিল্পী আয়েশা হক শিমুর সঞ্চালনায় উৎসবে চট্টগ্রামের কবিতায় ছন্দ-নৈপুণ্য ও নিরীক্ষা শীর্ষক আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন কবি জিন্নাহ চৌধুরী। আলোচক ছিলেন কবি খুরশীদ আনোয়ার, রিজোয়ান মাহমুদ, আকতার হোসাইন, জিললুর রহমান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে সৃষ্টি কালচারাল ইনস্টিটিউট ও দীপশিখা নৃত্য গোষ্ঠী। সংগীত পরিবেশন করে স্বরলিপি সাংস্কৃতিক ফোরাম-চট্টগ্রাম। পরে কবিতা ও ছড়া পাঠ পর্বে সভাপতিত্ব করেন কবি মৃণালিনী চক্রবর্তী। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হবে কর্মসূচি। আজ ও আগামীকাল রয়েছে চট্টগ্রামের কথাসাহিত্যে বৈচিত্র্য, চট্টগ্রামের শিশুসাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধ শীর্ষক ২টি আলোচনা। দলীয় পরিবেশনায় থাকবে ওড়িশি অ্যান্ড টেগোর ডান্স মুভমেন্ট সেন্টার, উঠোন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, বিশ্বভরা প্রাণ-চট্টগ্রাম জেলা। থাকবে ক্যাপ্টেন (অব.) উস্তাদ আজিজুল ইসলাম ও মিসেস খালেদা আউয়ালকে সম্মাননা প্রদান।

