সহ-আয়োজক কানাডা শুক্রবার টরন্টোতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি পয়েন্ট অর্জন করেছে।
দ্বিতীয়ার্ধে ৭৮তম মিনিটে সাইল লারিন স্বাগতিকদের হয়ে সমতাসূচক গোল করেন। এর আগে প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে জোভো লুকিচ গোল করে বসনিয়াকে এগিয়ে দেন। এটি ছিল কানাডার মাটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ।
এর আগে কানাডা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ১৯৮৬ ও ২০২২ সালে অংশগ্রহণ করেছিল। ঐ আসরগুলোতে ছয়টি ম্যাচেই পরাজিত হয়েছিল তারা।
কর্নার থেকে লুকিচের করা গোলটি টরন্টো স্টেডিয়ামে উপস্থিত উচ্ছ্বসিত বসনিয়ান সমর্থকদের উন্মাদনায় ভাসিযয়ে দেয়।
প্রথমার্ধে কানাডা বলের দখল ও আক্রমণে এগিযয়ে থাকলেও গোল করার ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারেনি। ১৭তম মিনিটে ফরোয়ার্ড জনাথন ডেভিড একটি সুযোগ পেলেও বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজ সহজেই সেটি রক্ষা করেন।
ম্যাচের প্রায় আধা ঘণ্টা পার হওয়ার পর কানাডার ইসমায়েল কোনোনে একটি দারুন সুযোগ পান, কিন্তু তার শট ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। লাল পোশাক পরা হাজারো কানাডীয় সমর্থকের হতাশা ছিল স্টেডিয়ামজুড়ে।
দ্বিতীয়ার্ধও প্রায় একইভাবে শুরু হয়। কানাডা আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও সমতা ফেরানোর পথ খুঁজে পাচ্ছিল না। বসনিয়ার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার সেয়াদ কোলাশিনাচ নিশ্চিত একটি গোল বাঁচান। এসময় তিনি ডেভিডের নেওয়া শট ক্রসবারে লেগে বাইরে চলে যেতে বাধ্য করেন। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শেষ পর্যন্ত লারিন কানাডার সেই ঐতিহাসিক গোলটি করে বসেন।
গোলটি উদযাপনে স্বাগতিক সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। শেষ মুহূর্তগুলোতে কানাডা জয়সূচক গোলের জন্য চাপ সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। তাদের পরবর্তী ম্যাচ ১৮ জুন ভ্যাঙ্কুভারে কাতারের বিপক্ষে।
ম্যাচ শেষে লারিন বলেন, “এটি আমার জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত ছিল। আমি প্রস্তুত ছিলাম মাঠে নেমে দলকে সাহায্য করতে। আমার বিশ্বাস ছিল গোল আসবেই। কানাডার যখন আমাকে প্রয়োজন হয়, আমি গোল করি- সব সময়ই করেছি। আমাদের শুধু মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। আমরা নিজেদের মাঠে খেলব এবং আমাদের সামর্থ্যে সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিতে হবে।”

