আজ পবিত্র ঈদুল আজহা। আত্মত্যাগ ও পরম উৎসর্গের মহান আদর্শে মহিমান্বিত মুসলমানদের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবটি আমাদের সমাজে ‘কোরবানির ঈদ’ হিসেবেও ব্যাপকভাবে পরিচিত। হিজরি বর্ষপঞ্জির জিলহজ মাসের ১০ তারিখে উদযাপিত এই পবিত্র উৎসবকে ঘিরে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিরাজ করছে ধর্মীয় আবহ, আনন্দ আর উৎসবের আমেজ। যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা, গভীর ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে ঈদগাহ ময়দান ও মসজিদগুলোতে ঈদের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের জন্য সমবেত হন মুসল্লিরা। খতিবরা খুতবার মাধ্যমে কোরবানির মূল শিক্ষা, ত্যাগের তাৎপর্য এবং ইসলামের মানবিক আদর্শ তুলে ধরেন। ধনী-দরিদ্র, শ্রেণি-পেশা কিংবা সামাজিক বিভাজন ভুলে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করেন এবং পরস্পরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ঈদের নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কোরবানিতে অংশ নেন। নিজের সবচেয়ে প্রিয় বস্তুটিও স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করার যে মহান শিক্ষা, ঈদুল আজহা সেই চেতনাকেই নতুনভাবে জাগ্রত করে।
ঐতিহাসিকভাবে ঈদুল আজহার তাৎপর্য জড়িয়ে আছে হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইলের (আ.) অবিস্মরণীয় আত্মত্যাগের ঘটনার সঙ্গে। মহান আল্লাহর নির্দেশে হযরত ইব্রাহিম (আ.) পুত্রকে কোরবানি করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তাঁর এই নিঃশর্ত আনুগত্য ও ত্যাগের পরীক্ষায় সন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহ তাআলা ইসমাইলের (আ.) পরিবর্তে জান্নাত থেকে একটি দুম্বা পাঠান। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণেই মুসলিম উম্মাহর মধ্যে কোরবানির এই বিধান চালু হয়।
বিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারা ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিচ্ছেন। জামাতকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

