ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে নিজের প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে চলা তীব্র সমালোচনার মুখে নিজের শক্ত অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জোরালো দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে তার সরকার যে চুক্তিটি করতে যাচ্ছে তা হবে অত্যন্ত ‘ভালো ও যথাযথ’। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে করা ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তির চেয়ে তার এই নতুন চুক্তি বহুগুণ শক্তিশালী ও কার্যকর হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সোমবার (২৫ মে) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
রোববার রাতে (২৪ মে) নিজের প্রতিষ্ঠিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পূর্বসূরি বারাক ওবামার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, ‘আমি যদি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করি, তবে তা হবে অত্যন্ত জুতসই ও যথাযথ। এ
টি ওবামার করা চুক্তির মতো মোটেও হবে না—যে চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ সম্পূর্ণ পরিষ্কার ও উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল।’
চলমান কূটনৈতিক আলোচনার স্পর্শকাতরতা এবং চরম গোপনীয়তা বজায় রাখার দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, ‘আমাদের চুক্তিটি আগের চুক্তির সম্পূর্ণ উল্টো বা বিপরীত। কিন্তু এখনও বাইরে থেকে কেউ এটি দেখেনি বা জানে না এর ভেতরে আসলে কী আছে।
এমনকি এর সব শর্ত নিয়ে এখনও চূড়ান্ত আলোচনাও শেষ হয়নি। সুতরাং, সেই সব ‘পরাজিত’ ব্যক্তিদের কথায় মোটেও কান দেবেন না, যারা নিজেরা কিছু না জেনেই কোনো বিষয়ের সমালোচনা করতে ভালোবাসে।’
পূর্বসূরি অন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ব্যর্থতার দায় তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, তার আগে যারা আমেরিকার ক্ষমতায় ছিলেন, এই আন্তর্জাতিক সমস্যাটি বহু বছর আগেই তাদের সমাধান করা উচিত ছিল। কিন্তু তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, তিনি তাদের মতো কোনো খারাপ বা দুর্বল চুক্তি দেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেন না।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আত্মপক্ষ সমর্থনকারী পোস্টটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন মার্কিন রাজনীতির ভেতরে তার বিরোধী পক্ষ ডেমোক্র্যাটরা এই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের যে চুক্তিটি হতে যাচ্ছে, সেখানে নাকি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ধারা বা আলোচনা অন্তর্ভুক্ত নেই।
আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচনার বাইরে রেখে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করলে তা দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। আর ঘরোয়া রাজনীতির এই তীব্র সমালোচনার জবাব দিতেই ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে বিরোধীদের ‘হতাশাবাদী’ আখ্যা দিয়ে নিজের প্রস্তাবিত চুক্তির পক্ষে সাফাই গাইলেন।

