উপমহাদেশের প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, বিশ্বসমাদৃত ‘ত্বরিকা-ই- মাইজভাণ্ডারীয়া’র প্রবর্তক আওলাদে রাসুল (দ.) গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর দ্বিশততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট’-এর ব্যবস্থাপনায় ২ মে শনিবার নগরীর জামালখানস্থ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব এর ‘জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হল’ (৮ম তলা)-এ ১২তম শিক্ষক সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল “শিক্ষার সংকট ও উত্তরণের উপায়: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ”। শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ট্রাস্ট এর উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীমউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এম.পি এবং গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এস জেড এইচ এম ট্রাস্টের সচিব অধ্যাপক এ ওয়াই এমডি জাফর। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের সৃষ্টিশীল এবং মানবিক কর্মকাণ্ডসমূহ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য যে সকল সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে সিসিইউ নির্মাণের জন্য তিনি ট্রাস্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে এরূপ সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানান। অনুষ্ঠানের গেস্ট অব অনার চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে কর্মমুখী শিক্ষাকে প্রায়োরিটি দিয়ে সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন হবে। শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট বাংলাদেশের শিক্ষা খাত, স্বাস্থ্য খাত এবং সমাজে ঝড়ে পড়া অবহেলিত মানুষকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। প্রবন্ধের উপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন পটিয়া খলিলুর রহমান মহিলা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, পটিয়া খলিল মীর কলেজের অধ্যক্ষ এস এম মিছবাহ উর রহমান, সীতাকুণ্ড লতিফা সিদ্দীকী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়া। সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকা, ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারী, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, বোয়ালখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ, কর্ণফুলি, আনোয়ারা, বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলাধীন সরকারি-বেসরকারি স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজসমূহের তিন শতাধিক সম্মানিত অধ্যক্ষ, প্রভাষক, উপাধ্যক্ষ ও সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এনায়েত বাজার মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক তাসকিয়া তুন নুর তানিয়া ও উত্তর কাট্টলী আলহাজ্ব মোস্তফা-হাকিম কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান। ট্রাস্টের মাননীয় ম্যানেজিং ট্রাস্টি মহোদয়ের ‘বাণী’ পাঠ করেন ট্রাস্টের প্রশাসনিক ও সমন্বয় কর্মকর্তা তানভীর হোসাইন। অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ ক্বারি মাওলানা সোহাইল উদ্দিন, হামদ ও নাত পরিবেশন করেন মাওলানা মুহাম্মদ মুজিবুল হক এবং মাইজভাণ্ডারী কালাম পরিবেশন করেন মাওলানা সৈয়দ জিয়াউদ্দিন।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমাবেশ উদযাপন পর্ষদের সদস্য বটন কুমার দে, অধ্যক্ষ আবুল কাছেম, তাজুল ইসলাম চৌধুরী, সৈয়দা রেহেনা আফরোজসহ প্রমুখ

