শেষ বিকেলে দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে বন্দর নগরীর প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, রহমতগঞ্জ, সিরাজুদ্দৌলা সড়ক ও রামপুরা এলাকায় আবারও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার বিকেল ৪টার পর থেকে নগরীতে ঝড়ো হাওয়ার সাথে বৃষ্টি শুরু হয়।
বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই নগরীর প্রবর্তক মোড় থেকে বদনা শাহ মাজার পর্যন্ত অংশে আবারও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
গেল সোম, মঙ্গল ও বুধবার টানা তিনদিন প্রবর্তক মোড়, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা ও কাতালগঞ্জের কয়েকটি অংশে জলাবদ্ধতা ছিল।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে ও সমাধান করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বুধবার চট্টগ্রামে এসে নানা রকম বক্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখেও পড়েন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
এই এলাকা পরিদর্শন করে নগরীর হিজড়া খাল ও জামালখান খালের বাঁধগুলো পাঁচ দিনের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার কথাও বলেছিলেন প্রতিমন্ত্রী ও সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন।
এর তিন দিনের মাথায় আবারও আগের এলাকাগুলোর বেশিরভাগে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দায়িত্বশীলরা বলছেন, ‘‘এখনো এসব খালের বাঁধগুলো সব কাটা হয়নি।’’
এদিন বিকালে বদনা শাহর মাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত অংশে পানি জমে যায়। তবে সন্ধ্যার আগেই প্রবর্তক মোড়ের ‘রূপালী গিটার’ চত্বর থেকে পানি নেমে যায়। কিন্তু বদনা শাহ মাজারের সামনে পানি তখনো ছিল।
ওই সড়কে বেশ কয়েকটি বেসরকারি ডায়গনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক আছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ারও অন্যতম প্রধান রাস্তা এটি।
বিকালে ওই পথেই পাঁচলাইশ এলাকার একটি ডায়গনস্টিক সেন্টারে যাচ্ছিলেন আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, “আজকে বৃষ্টি হয়েছে ঘণ্টাখানেক মাত্র। এতেই যে পানি উঠে যাবে ভাবতে পারিনি। এখন দেখি প্রায় হাঁটু পানি।”
প্রবর্তক মোড় এলাকায় জলাবদ্ধতার বিষয়ে জানতে চাইলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিকাল ৫টার দিকে পানি উঠেছিল, তবে আগের মত না। এখন পানি নেমে গেছে।
“এখনো সবগুলো বাঁধ কাটা হয়নি। মিমি সুপার মার্কেটের আশেপাশের এলাকায় অনেকগুলো আবাসিক, সেখান থেকে সব পানি এই পথে নামে। একটু সময় দিতে হবে। তবে আজ তিন পোলের মাথা, জিইসি মোড় ও ওয়াসার মোড় এলাকায় পানি ওঠেনি।”
অন্যদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর আগ্রাবাদ রামপুরা এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি দেখতে যান মেয়র শাহাদাত হোসেন। সেখানে স্থানীয়রা মেয়রকে কাছে পেয়ে নিজেদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন।
সেখানে শাহাদাত হোসেন বলেন, “আজব বাহার খাল পুরো রামপুরা ওয়ার্ড জুড়ে আছে। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অংশ হিসেবে সিডিএ কাজের অংশ হিসেবে বাঁধ দিয়েছে। এ কারণে এখানে পানি উঠেছে। আশ্বস্ত করতে চাই, এই বাঁধ খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। ক্রমান্বয়ে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড বাঁধগুলো খুলে দেবে।
“জামালখান, প্রবর্তকের মোড়, মেডিকেল, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ এসব এলাকায় হিজড়া খাল ও জামালখান খালে বাঁধ দেয়ার কারণে পানি উঠছে। চট্টগ্রাম শহরের অন্য কোনো অংশে পানি উঠে নাই। আশ্বস্ত করছি অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে খালের বাঁধ খুলে দেবে। মাটি থাকলে মাটি উঠিয়ে নিয়ে যাবে। পুরো পরিষ্কার করে দেবে।”
নগরীর সিরাজদ্দৌলা সড়কের সাব এরিয়া এলাকা, রহমতগঞ্জ সড়কের জে এম সেন সংলগ্ন এলাকা, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার কয়েকটি সড়কে এবং কাতালগঞ্জের কিছু অংশেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আমবাগান কেন্দ্রের অবজারভার মো. মিনহাজ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সোমবার পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টিপাত চলতে পারে, বলেন তিনি।

