বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ফাইতংবানিয়ারছড়া-গজালিয়া সড়ক চেইনেজ ২০০০-৪০৫০ মিটার উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে জনগণকে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের স্টেশনে এ অবহিতকরণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বান্দরবান জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান, উপজেলা প্রকৌশলী আবু হানিফ, ফাইতং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাবেদ মাহাবুবু, ঠিকাদার ফরিদুল আলম, বিএনপি নেতা মিজবাহ উদ্দিন মিন্টু, জাতীয় নাগরিক পাটি’র্র (এনসিপি) বান্দরবান জেলার সদস্য সচিব মোহাম্মদ এরফানুল হক আব্দুল জলিল কোম্পানী প্রমুখ অতিথি ছিলেন। শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত অবহিতকরণে লামা ও চকরিয়া উপাজেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ইলেকটি্িরক মিডিয়া প্রতিনিধিসহ স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় এলজিইডি, ঠিকাদার পক্ষ ও স্থানীয় লোকজনের মাঝে এ সড়ক উন্নয়ন কাজ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও গনশুনানি হয়। কাজের ঠিকাদার মো. ফরিদুল আলম এ অবহিতকরণ ও গণশুনানির ্আয়োজন করেন।
এতে এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী আবু হানিফ কাজের নিয়মনীতি তুলে ধরে বলেন, কাজের শুরুতে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই। মাত্র বেড করা হয়েছে। গুনগত মান ঠিক রেখেই সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। পরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যথাযথভাবে কাজ বাস্তবায়ন করার আশ্বাস দেন প্রকল্পের ঠিকাদার মো. ফরিদুল আলম। তিনি বলেন, ফাইতং ইউনিয়নের প্রতি আমার বিশেষ টান আছে। এ টানের কারনে আমার তদবিরে ফাইতং-গজালিয়া সড়ক নির্মিত হয়েছে। আমার ভাই জালাল উদ্দীন -এ ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তাছাড়া এখানে আমাদের ঘরবাড়ি, জায়গা জমিসহ ব্যাবসা বাণিজ্যও রয়েছে। তাই এ সড়ক উন্নয়ন কাজে অনিয়ম করার প্রশ্নই ওঠে না। একটি মহল হীনস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে অপপ্রচার করে উন্নয়ন কাজে বাঁধার সৃষ্টি করছেন। অবহিতকরণে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সাংবাদিক মুহাম্মদ কামালুদ্দিন ও মো. রফিকুল ইসলাম, নুর মোহাম্মদ মানিক, ফাইতং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. ইমাম উদ্দিন।
এর আগের দিন কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার আদিল আহমদ চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি ফাইতং বানিয়ারছহড়া-গজালিয়া সড়ক উন্নয়ন কাজে অনিয়ম হচ্ছে মর্মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করেন বলে জানান, ঠিকাদারের ভাই নুর মোহাম্মদ মানিক। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি আমাদের কাছে ৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেছিল, যার প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। এ বিষয়ে আমরা আইনের আশ্রয় নিবো। আমরা চাঁদার টাকা না দেওয়ায় আদিল আহমদ চৌধুরী ফেসবুকের মাধ্যমে অপপ্রচার করে প্রশাসন ও স্থানীয়দের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পায়তারা করেছেন মাত্র। তবে সাংবাদিক হিসেবে সড়ক উন্নয়ন কাজে অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরায় ঠিকাদার পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে এখন চাঁদা দাবীর মত অভিযোগ তুলে অনিয়মের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানান, অভিযুক্ত আদিল আহমদ চৌধুরী। অবহিতকরণ শেষে এলজিইডি’র বান্দরবান জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান যথাযথভাবে সড়ক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নে স্থানীয় জনসাধারণ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
লামায় ফাইতং বানিয়ারছড়া-গজালিয়া সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অবহিতকরণ ও গণশুনানি
মো. নুরুল করিম আরমান, লামা (বান্দরবান)

