আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি মাতামুহুরী কলেজের জায়গা দখল ও মামলা পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ গণমাধ্যমে ভিত্তিহীন মানহানিকর অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভা এলাকার চেয়ারম্যান পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল লতিফের ছেলে সুমন কলেজের জায়গা জবর দখল করছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়। শুধু তাই নয়, সুমন কলেজের কেয়ারটেকারকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে দাবি করা হয়েছে। গত বুধবার দুপুরে কলেজ কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর সুভাষ কান্তি নাথ। এতে পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আমির হোসেন, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবু তাহের মিয়া, কলেজ শিক্ষক মো. আব্দুল মোনায়েম, মো. আবু তালেব, রফিকুল ইসলাম খান, মো. সামশুল আলম, ফাতেমা বেগম, মো. আবু রাশেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, ইয়াসির আরাফাত, মোহাম্মদ গিযাস উদ্দিন, মুহাম্মদ ফরিদুল আলম ও সহকারী লাইব্রেরিয়ান মোহাম্মদ হানিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ সুভাষ করেন, উপজেলার ৩০৫নং গজালিয়া মৌজার সাপমারাঝিরি সাকিনে কলেজের ১৭০নং হোল্ডিং মূলে ৫ একর জায়গা রয়েছে। সম্প্রতি এ জায়গায় অনধিকার প্রবেশ করে দুইটি সাইন বোর্ড ভেঙে জোরপূর্বক টিনের ঘর নির্মাণ করেন সুমনসহ ২০-২২জন। ফলশ্রুতিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ ১৪ মার্চ লামা থানার ওসির কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। ওইদিন প্রায় ঘরটির ৮০ ভাগ নির্মাণ করেন সুমন। পরদিন অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভার অনুমোদনক্রমে থানায় ফৌজদারি মামলা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি একটি মামলা পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। গত ১৬ মার্চ কেয়ারটেকার রফিকুল ইসলাম মিনু বাদী হয়ে সুমনের বিরুদ্ধে লামা থানা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুটি মামলা করেন। প্রফেসর সুভাষ কান্তি নাথ বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ আইনের আশ্রয় নেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে সুমন ফেসবুক ও গণমাধ্যমে মামলা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য সন্নিবেশ করে সম্মানহানি করে চলেছেন। বিশেষ করে আমাদের ইংলিশ ও অ্যাকাউন্টিং ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক ও কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মানহানিকর প্রচারণা চালায়। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাদের অ্যাকাউন্টিং ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক মুহাম্মদ সামশুল আলম এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিযেছেন। সুমন গংরা যেন কলেজের জায়গা জবরদখল করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর সুভাষ কান্তি নাথ।
এদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সুমন বলেন, আমি কলেজের জায়গায় ঘর নির্মাণ করিনি বা কলেজের সাইনবোর্ডও ভাঙিনি। ওয়ারিশ সূত্রে আমার নানা অহিদুল্লাহ’র নামীয় আর/৬৬নং হোল্ডিয়ের জায়গায় ঘর নির্মাণ করেছি।
জরুরি সংবাদ সম্মেলন কলেজ কর্তৃপক্ষের
লামায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি মাতামুহুরী কলেজ’র জায়গা জবর দখল
মো. নুরুল করিম আরমান, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি

