অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি কন্যা রাঙামাটিতে বেড়েছে পর্যটকদের আগমন। নাগরিক জীবনের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে ঘুরে বেড়াতে রাঙামাটি ভ্রমণ করছেন তারা।
পাহাড়, মেঘ, ঝরনা ও হ্রদে ঘেরা প্রকৃতির লীলাভূমি পার্বত্য এই জেলা বরাবরই পছন্দের তালিকায় থাকে পর্যটকদের। সরকারি ছুটি ছাড়াও সপ্তাহের বৃহস্পতি থেকে শনিবার রাঙামাটির বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নামে পর্যটকের ঢল। তবে এই শীত মৌসুমে পুরো সপ্তাহ জুড়েই পর্যটকদের ভিড়।
বর্তমানে খালি নেই হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট। জেলার পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের উপচে ভরা ভিড়। এতে ব্যবসা বেড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ডিসেম্বর মাস থেকে রেকর্ড পরিমাণ পর্যটক ভ্রমণ করছেন পাহাড়ি কন্যা রাঙামাটিতে।
রাঙামাটি জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং ব্যস্ততম পর্যটন স্পট সাজেক। দেশের বিনোদনের অন্যতম জনপ্রিয় এই স্থানটি এখন পর্যটকদের দখলে। সাজেকের হোটেল-মোটেলের প্রায় শতভাগ কক্ষ ভাড়া হয়ে গেছে। শীতের এই সময়টা উপভোগ করতে ছুটির দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন হাজার পর্যটক ভ্রমণ করছে মেঘ-পাহাড়ের সাজেক ভ্যালিতে।
বিপুল পর্যটকের উপস্থিতিতে খুশি ব্যবসায়ীরাও। অনেকেই রুম বুকিং না দিয়ে সাজেকে চলে যাওয়ায় রুম পায়নি। তাদের বিভিন্ন ক্লাব এবং বাসাবাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়।
কটেজ মালিক সমিতি অব সাজেকের তথ্যমতে, সাজেকে ১৪০টি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। রেস্তোরাঁ আছে ১৪টির বেশি। সবগুলোতেই পর্যটকদের ভিড়।
কটেজ মালিক সমিতি অব সাজেকের সহ সভাপতি চাই থোয়াই চৌধুরী বলেন, ডিসেম্বর মাস থেকে এখন পর্যন্ত সাজেকে পর্যটকের ঢল নেমেছে। প্রায় সব হোটেল-মোটেলে শতভাগ বুকিং রয়েছে।
তিনি জানান, অনেক পর্যটক রুম বুকিং না দিয়ে সাজেক এসে অনেকেই রুম পায়নি। তাদের বিভিন্ন ক্লাব, বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান,২০২৫ সালের বছরের শেষদিন থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত সাজেকের সব হোটেল, রিসোর্টের প্রায় শতভাগ রুম বুকিং রয়েছে।
খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়ক জিপ সমিতির লাইনম্যান ইয়াছিন আরাফাত বলেন, সাজেকে পর্যটকের আগমন বাড়ায় এখানে আমরা ব্যস্ততম সময় পার করছি। এখন আমাদের আয়ও ভালো হচ্ছে।
শুধু সাজেকই নয়, পর্যটকের ভিড় এখন রাঙামাটি জেলা সদরের পর্যটন স্পটগুলোতেও। ঝুলন্ত সেতু, পলওয়েল পার্ক, আরণ্যক, আসাম বস্তি, কাপ্তাই সড়কসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্পট পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে।
এ ছাড়া কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ নীল জলরাশির সাথে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকরা সুভলংয়ের উদ্দেশে নৌবিহারও করছেন।
চট্টগ্রাম থেকে ঘুরতে আসা জমির উদ্দিন বলেন, আমরা পরিবার নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছি। রাঙামাটি আসার পথে আঁকাবাঁকা ও উঁচুনীচু পাহাড়ি সড়কের সৌন্দর্য এবং হ্রদ, পাহাড়ের মেলবন্ধনের অপরূপ দৃশ্য এখানে না আসলে বুঝতেই পারতাম না। সবকিছু ভালো লাগছে। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে আবারও ঘুরতে আসবো রাঙামাটি।
পর্যটন বোট ঘাটের টোল আদায়কারী ফখরুল ইসলাম বলেন, পর্যাপ্ত টুরিস্ট এসেছে রাঙামাটিতে। পর্যটকদের আগমন বাড়ায় পর্যটন ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হচ্ছে।
শহরের হোটেল স্কয়ার পার্কের স্বত্বাধিকারী নিয়াজ আহম্মেদ বলেন, প্রচুর টুরিস্ট এসেছে রাঙামাটিতে।
আমাদের সব রুম শতভাগ বুকিং রয়েছে। আরো অনেকেই রুম খুঁজেছেন, কিন্তু আমরা দিতে পারিনি।
পর্যটন করপোরেশনের আওতাধীন পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের রাঙামাটির ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক রাঙামাটি ভ্রমণ করছেন। গত ডিসেম্বর মাস থেকেই এখানে পর্যটক বেড়েছে কয়েক গুণ। এই ধারা জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। তিনি জানান, প্রতিদিন ঝুলন্ত সেতুতে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার পর্যটক ভ্রমণ করছেন। তবে ছুটির দিনে আরো বেশি বেড়ে যায় বলে জানালেন ব্যবস্থাপক।
টুরিস্ট পুলিশ রাঙামাটি জোনের ইনচার্জ তারিকুল আলম জুয়েল বলেন, টানা ছুটিতে রাঙামাটিতে প্রচুর পর্যটক সমাগম হয়েছে। পর্যটকরা যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনও সমস্যার মধ্যে না পড়েন সেজন্য আমরা সজাগ রয়েছি।

