বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আলাদাভাবে করলে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয় হবে।
তিনি বলেন, ‘গণভোট করতে গেলে রাষ্ট্রের বিপুল টাকা অপচয় হবে। গণভোটের আড়ালে পতিত ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, তা ভেবে দেখতে হবে। কেউ বিএনপির বিজয় ঠেকাতে চাইলে তারা নিজেরাই বিপর্যস্ত হয়ে যেতে পারে।’
আজ বুধবার রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দল যদি নিজেদের ইচ্ছে মতো দাবি আদায় করে নিতে চায়, সেটি তাদের জন্য রাজনৈতিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘নানা শর্ত জুড়ে দিয়ে কিছু দল, যারা রাজপথে আমাদের সঙ্গী ছিল, তারা নির্বাচন নিয়ে জটিলতা তৈরি করছে। পতিতদের ফেরার সুযোগ তৈরি করছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুপ্ত থাকা দলটির ছাতার নিচে পতিত ফ্যাসিস্টরা আশ্রয় নিয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা দরকার।’
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেনো আর কেউ দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে এবং দেশকে যেনো কেউ আর তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে এটিই হোক আমাদের ৭ নভেম্বরের অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য।
বর্তমান দুর্বল সরকারকে হুমকি না দিয়ে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সরকারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কিছু দল জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। সরকারকে হুমকি না দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের কাছে যাওয়া দরকার।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্র ও একদলীয় শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল, সেনাবাহিনীর গৌরবকে ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, তারা পরাজিত হয়েছে। যারা ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল, অসংখ্য প্রাণের মধ্য দিয়ে তাদের পতন হয়েছে। দেশকে কেউ যেনো তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে এটাই হোক ৭ নভেম্বরের অঙ্গীকার।’
জামায়াত আমিরের প্রস্তাবিত নারীদের ৫ ঘণ্টার কাজ করার বিষয়েও সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘৮ ঘণ্টার জায়গায় পোশাক কারখানায় যদি নারীরা ৫ ঘণ্টা কাজ করেন, তাহলে বাকি সময়ের অর্থ কে দেবে? এর মাধ্যমে কি নারীদের কাজের সুযোগ নষ্ট হচ্ছে না। গণভোটের চেয়ে নারীদের মধ্যে চাকরি সংকুচিত হওয়ার যে আতঙ্ক সেটি কাটানো বেশি প্রয়োজন।’
দেশের কৃষি ও কৃষকদের বাঁচানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আলু চাষিদের যে ভর্তুকি প্রয়োজন, আবদার মেটাতে গিয়ে গণভোট করতে গেলে সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে। গণভোটের চেয়ে আলু চাষিদের ন্যায্যমূল্য পাওয়া বেশি প্রয়োজন। জনগণের হাজার-হাজার কোটি টাকা দিয়ে গণভোট উৎপাদনের চেয়ে পেঁয়াজের সংরক্ষণাগার বেশি প্রয়োজন। কিন্তু ওইসব চাষিদের কথা বলার মতো দেশে কেউ নেই, এটাই দুর্ভাগ্য।’
আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বর্তমানে একটি সংকট তৈরি হয়েছে। গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার চক্রান্ত চলছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তা রুখে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

