নোয়াখালী সরকারি কলেজের ভবনগুলো অনেক পুরনো। ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই কলেজের ভবনগুলোতে নানা সমস্যা বিদ্যমান। ৮ টির মধ্যে ৬ টি ভবনেই প্লাস্টার নষ্ট,ও ফাটল দেখা যায় । ২ টি ভবন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
স্লোগান নিউজ.কম থেকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনগুলোতে অনেক জায়গায় ফাটল, খুলে গেছে সিমেন্টের আস্তরণ। জানালার কাচ ভাঙা। এ বিষয়ে কলেজে অধ্যয়নরত বিভিন্ন বিভাগের ছাত্র ছাত্রীরা তাদের ক্লাস ও ভবনের সমস্যার কথা জানায়।
পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্র ইমরানুল মাওলা বলেন, বিজ্ঞান ও দর্শন ভবনের অবস্থা জরাজীর্ণ, বিশেষ করে বোটানী বিভাগের ক্লাসে প্লাস্টার খুলে গেছে। ইলেকট্রিক লাইনেও সমস্যা। নতুন ভবন ছাড়া প্রায় সবগুলোতে ফাটল। স্যানিটারি সিস্টেমেও সমস্যা প্রকট।
একই বিভাগের মিল্লাত হোসেন ভবনের সমস্যার সাথে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের মাদক সেবনের কথাও বলেন। এতে নিরাপত্তার বিষয়টি আমলে নেবার কথা জানায়।
বাংলা বিভাগের আবদুল্লাহ আল অনি বলেন, আমাদের ক্লাসে স্থান সংকুলানের সমস্যাও আছে। একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাসও এখন এই ক্যাম্পাসে হচ্ছে। এজন্য প্রায়ই ক্লাস সমন্বয়ে সমস্যা হয়।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আকবর হোসেন হৃদয় লাইব্রেরি ভবনের নীচতলার সমস্যা জানান, এখানে বিভিন্ন সংগঠনের কাজ ও আলোচনা হয়ে থাকে। আর্ট এন্ড ফটোগ্রাফি, বাঁধন ( স্বেচ্ছায় রক্তদান) এবং রেডক্রিসেন্টের কাজের জন্য নির্ধারিত রুমের পাশে ওয়াশরুমগুলোর দুটো পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। বাকিদুটো কোনোরকমে কাজ চালানো যায়। এছাড়া এখানে দরজা, জানালা ভাঙা, তেমন কোনো আসবাবপত্রও নেই তাই বিভিন্ন দরকারি বই ও কাগজপত্র অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকে।
রাস্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ফারজানা আক্তার বলেন, প্রশাসনিক ভবনের অবস্থাও খারাপ। বিশেষ করে চতুর্থ তলায় রাস্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের অংশ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কলাম ফেটে গেছে। ছাদেও ফাটল আছে। দরজা জানালায় প্রচুর সমস্যা। বৃষ্টির পানির কারণে শিক্ষকগণ বসতেও সমস্যা হয়।
হিসাববিজ্ঞান বিভাগের হাসান উদ্দিন বলেন, আমাদের ওয়াশরুম, বেসিন আর চলাচলের রাস্তায় সমস্যা বেশি।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের রবিউল ইসলাম রাজিব বলেন, আমরা নতুন ভবনে ক্লাস করি। ভবনে সমস্যা নেই। তবে আমাদের রাস্তায় জলাবদ্ধতা ও আবর্জনার জন্য এখানে আসা ও অবস্থান করা কষ্টকর।
ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ফারহানা আক্তার বলেন, পুরো ক্যাম্পাসে মেয়েদের জন্য ছোটো একটা কমনরুম। এখানের ওয়াশরুমে হাইজিন মেইনটেইন করা হয় না। টিস্যু পেপার স্যানিটাইজার কিছুই নেই। এই রুমের ফ্লোর নিচে নেমে বসে যাচ্ছে। হাঁটতেই ভয় লাগে।
লাইব্রেরিয়ান জায়ের হোসেন বলেন, লাইব্রেরির দোতলায় বৃষ্টিজনিত পানির সমস্যা আছে। কিছু সংস্কার হলেও পুরো সমস্যা সমাধান হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, আমাদের নোয়াখালী কলেজে যেন জগন্নাথ হলের অবস্থা না হয়। বিশেষ করে পুরাতন বিজ্ঞান ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা উচিত। অন্যান্য ভবনের ছাদগুলো ও কলাম মেরামত জরুরি।
এ বিষয়ে আরও জানতে চাইলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানান, সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে চিঠি দেয়া হয়েছে।
নোয়াখালীর মধ্যে অন্যতম এই কলেজে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। সাথে রয়েছে অনেক শিক্ষক ও কর্মচারিদের নিরাপত্তা। সবদিক বিবেচনায় দ্রুত কলেজের ভবনের সংস্কার ও নতুন ভবনের জোর দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকগণ।
নোয়াখালী সরকারি কলেজে ভবনগুলোতে ফাটল, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পাঠদান
নুশরাত রুমু, নোয়াখালী

