রাজধানীর ফার্মগেটে মেট্রোরেলের একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে নিচে পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই মেট্রোরেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহতের নাম আবুল কালাম আজাদ। তার বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কিশোরকাটি গ্রামে।
মেট্রোরেলের নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ জানান, ফার্মগেটের খেজুরবাগান মোড়ে নির্মাণ নকশায় ত্রুটি ছিল। এর আগেও এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে, জাপানিজ ঠিকাদারদের ঠিক করতে বলা হলেও করেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় ফুটপাত দিয়ে ওই তরুণ ব্যাগ নিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ বিয়ারিং স্প্রিংটি ছিটকে পড়ে তার মাথায় আঘাত করে এবং পাশের একটি চপ-শিঙ্গাড়া দোকানেও আঘাত হানে। এতে দোকানের সামনের কাঁচ ভেঙে দুইজন আহত হন। মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত তরুণ ঘটনাস্থলেই মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মেট্রোরেলের লাইনের নিচে উড়াল পথের পিলারের সঙ্গে রাবারের এসব বিয়ারিং প্যাড থাকে। এগুলোর প্রতিটির ওজন আনুমানিক ১৪০ থেকে ১৫০ কেজি।
এর আগেও গত বছর সেপ্টেম্বরে খামারবাড়ি এলাকায় মেট্রোর একটি পিলার থেকে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে। এতে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১১ ঘণ্টা বন্ধ থাকে ট্রেন চলাচল।
বড় সেতু বা উড়াল পথ নির্মাণে ব্যবহার করা হয় বিয়ারিং প্যাড। নিচের পিলারের সঙ্গে উড়াল পথের সংযোগ স্থলে বসানো বিশেষ ধরনের রাবারের তৈরি এ উপাদান গাড়ির চাপ সরাসরি পিলারে না ফেলে মাটির দিকে নামিয়ে দেয়। এটি ব্যবহার হয়েছে বাংলাদেশের মেট্রোরেলেও।

