বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো টাইফয়েড প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি চালু হতে যাচ্ছে। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে সারাদেশে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাগসিন দেওয়া হবে। এটি বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্থা স্বীকৃত একটি নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষাকারী টিকা। যা টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে কার্যকর ভাবে প্রমানিত। সরকারের সাম্প্রতিক টিকাদান কর্মসূচির (EPI) আওতায় শিশু শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এবং কমিউনিটি ব্যাজে এই টিকা দেওয়া হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। টাইফয়েড জ্বর এখনো বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ সংক্রামক ব্যাধি। ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতিবছর প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষ টাইফয়েড আক্রান্ত হন। এরমধ্যে ১ লক্ষ ১০ হাজার মৃত্যু বরণ করেন।
সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে দক্ষিণ এশিয়া সাব দেশে সাহারান আফ্রিকান অঞ্চলে অপরিস্কার পানি, খোলা জায়গায় মল ত্যাগ, অস্বাস্থ্যকর খবার ও স্যানিটেশন ব্যবস্হার অভাব এই রোগের অন্যতম কারন হিসেবে অবিহিত করেছে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। বর্তমান বিশ্বে ৪১৯ মিলিয়নের ও বেশি মানুষ খোলা জায়গায় মল ত্যাগ করে। আর ১০ ভাগ মানুষ এখনো অপরিশোধিত পানি দিয়ে তৈরি খাবার গ্রহন করছে। এই ভ্যাগসিন কার্যক্রমে অংশ নিতে হলে প্রতিটি শিশুর ১৭ ডিজিটের ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ আবশ্যক। যাদের এখনো জন্ম নিবন্ধন হয়নি, তাদের দ্রুত স্হানীয় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার কিংবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করতে সরকারি ভাবে নিদের্শনা প্রদান করা হয়েছে। রেজিষ্ট্রেশনের জন্য নির্ধারিত ওয়েবসাইট WWW,vaxepl,gov,bd এ গিয়ে সহজেই নিবন্ধন ও টাইফয়েড টিকার জন্য অবেদন করা যাবে। যারা পূর্বে জরায়ু মুখ ক্যান্সারের টিকার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন তাদের পুনরায় নিবন্ধনের প্রয়োজন হবে না। তারা সরাসরি টাইফয়েড টিকার জন্য রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবেন। টাইফয়েড প্রতিরোধে ভ্যাকসিন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্ন খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করা ও জরুরি। সরকারের এই উদ্যোগ যেন সফল হয়, সেজন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা ও অভিভাবকদের সক্রিয় অংশ গ্রহন। তাই এখনই সময় আপনার শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার।
টাইফয়েড রোগটি এক প্রকার ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমনে হয়ে থাকে। এটি প্রধানত দূষিত পানি, খাবার এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের মাধ্যমে ছাড়ায়।রোগটি একজন থেকে অপরজনে ছড়াতে পারে। বিশেষত রোগীর পায়খানা বা বমি থেকে দূষণ ছড়ালে, স্যানিটেশন ব্যবস্হা দূর্বল হলে এই রোগের প্রকোপ বাড়ে। টাইফয়েড একটি সচেতনতা নির্ভর রোগ। প্রতিরোধই এর প্রধান প্রতিকার। সুস্থ ও সচেতন জীবন যাপনের মাধ্যমে এই রোগ থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া সম্ভব। তাই প্রত্যেকেরই উচিত নিজেদের সতর্ক রাখা ও অন্যকে সচেতন করা। এই জন্য চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা সহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ স্হানীয় লোকজনদের সচেতন করতে প্রচারনা সহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ এলাকার প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এজন্য ব্যাপক বেশ কিছুদিন থেকে প্রচারনা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
